শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকবেন বলে প্রত্যাশা তাঁদের

927
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ফাইল ছবি)

বাংলাদেশের আগামী সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার গঠন করবেন বলে দৃঢ় আশা প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন রাষ্ট্র, সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানেরা। তাঁরা গতকাল বুধবার বিভিন্ন সময়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে পৃথক বৈঠকে এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বৈঠকের পর সাংবাদিকেদের ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক বলেন, ‘সার্বিকভাবে সবাই আশা প্রকাশ করেছেন, বর্তমান সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের নেতৃত্বে বহাল থাকবেন।’

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন বুধবার রাতে নিউইয়র্কের হোটেল গ্র্যান্ড হায়াতে অনুষ্ঠিত এই ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী এদিন সংস্থার সদর দপ্তরের দ্বিপক্ষীয় সভাকক্ষে পৃথকভাবে এস্তোনিয়ার প্রেসিডেন্ট ক্রেস্টি কালিজুলেইদ, ইউএন হাইকমিশনার ফর রিফিউজিস (ইউএনএইচসিআর) ফিলিপ্পো গ্রান্দি, ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনেরিয়েটা ফোর, মিয়ানমার বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত ক্রিস্টিন শ্যার্নার বার্গেনার এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র এবং নিরাপত্তানীতি–বিষয়ক উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি ফেডেরিকা মঘেরনিনির সঙ্গে বৈঠক করেন।

পাশাপাশি এদিন জলবায়ু–সংক্রান্ত প্যারিস চুক্তি ‘সিওপি-২৪’ বাস্তবায়ন বিষয়ে সদস্যদের উচ্চপর্যায়ের এক আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী।

পররাষ্ট্রসচিব বলেন, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দিত করেন বিভিন্ন রাষ্ট্র, সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানেরা বলেন, তাঁরা আবারও তাঁকে (শেখ হাসিনা) প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁদের মাঝে পাবেন।

শহীদুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, রোহিঙ্গাদের বিষয়ে ভূমিকা, আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও ঐক্য-সংহতির কথা বিবেচনা করেই বিভিন্ন রাষ্ট্র, সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানেরা ওই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তাঁরা মনে করছেন, আগামী বছরও তাঁরা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারবেন।

প্রেস সচিব বলেন, বিভিন্ন রাষ্ট্র, সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানেরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও উন্নয়ন উভয়ই একযোগে চলবে। তাঁরা ভবিষ্যতেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে শেখ হাসিনার সঙ্গে পুনরায় দেখা হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

পররাষ্ট্রসচিব বলেন, তাঁরা আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন, গণতন্ত্রের পথে যে যাত্রা প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে শুরু করেছেন, তা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হবে। দেশে বিদ্যমান গণতন্ত্র ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে। প্রধানমন্ত্রী এ সময় দেশে বিদ্যমান রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সমস্যা তুলে ধরে মিয়ানমার যাতে তাদের নাগরিকদের নিজ দেশে দ্রততার সঙ্গে ফেরত নেয়, সে জন্য তাদের প্রতি চাপ বাড়াতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান বাংলাদেশে নেই। বরং মিয়ানমার সরকারকেই এই সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে। এ জন্য তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের তাদের মাতৃভূমিতে ফিরে যেতে হবে। তাদের নিজস্ব অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তিনি বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা নিজের মাতৃভূমিতে ফেরত যাচ্ছে, সেই সময়টায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাহায্য নিয়ে তাদের দেখাশোনা করবে।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরে তাঁর সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে এ বিষয়ে বিশ্বসম্প্রদায়ের সহযোগিতা কামনা করেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘একটি তালিকায় চার হাজার রোহিঙ্গার নাম শনাক্ত করা হয়েছে, আসুন এদের মাধ্যমেই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা যাক।’

মিয়ানমার বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত ক্রিস্টিন শ্যার্নার বার্গেনার প্রধানমন্ত্রী অবহিত করেন, তিনি রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানকল্পে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার দুটি দেশই সফর করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, রোহিঙ্গারা যাতে নিজ মাতৃভূমিতে ফেরত যেতে পারে, সে জন্য রাখাইন রাজ্যে একটি অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য তিনি মিয়ানমারকে বোঝাতে সক্ষম হবেন। এই সমস্যার সমাধানে তিনি পুনরায় বাংলাদেশ সফরে আসবেন বলেও জানান।

বার্গেনার বলেন, গত বছর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে মিয়ানমার বিষয়ে যে পাঁচ দফা প্রস্তাব করেন, তার একটি ছিল মিয়ানমার বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূতের অন্তর্ভুক্তি। তিনি বলেন, ওই পদে তাঁর নিযুক্তির মাধ্যমেই সেই প্রস্তাবের বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।

রাষ্ট্র, সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানেরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক অগ্রগতিরও ভূয়সী প্রশংসা করেন। পররাষ্ট্রসচিব বলেন, এটা কী করে সম্ভব হলো, তাঁরা এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে জানতে চান। তাঁরা এ সময় এ বছরের ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির উল্লেখ করে বলেন, নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও এটি দেশটির উন্নয়নের প্রতিচ্ছবি।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY