১৪ দলের কর্মিসভায় নাসিম প্রস্তুত থাকুন, ডাক দিলেই বেরিয়ে আসতে হবে অক্টোবরে ঢাকায় মহাসমাবেশ

1019

অক্টোবরে রাজধানীতে মহাসমাবেশ করবে ক্ষমতাসীন ১৪ দল। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদান শেষে দেশে ফিরলে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করে মহাসমাবেশের বিষয়টি চূড়ান্ত হবে। ১৪ দলের মুখপাত্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এ কথা জানিয়েছেন। তিনি গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চের কাজী বশির মিলনায়তনে ১৪ দলের এক কর্মী সমাবেশে এ কথা জানান। ‘বিএনপির অব্যাহত মিথ্যাচার ও চক্রান্তের বিরুদ্ধে’ ১৪ দল এই কর্মী সমাবেশের আয়োজন করে।

১৪ দলের এই কর্মী সমাবেশস্থলেই সম্প্রতি গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল ১৪ দলের শীর্ষ নেতারা তাঁদের বক্তব্যে জানান, জাতীয় ঐক্যের নাগরিক সমাবেশে যোগদানকারী ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধেই ১৪ দলের কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

কর্মী সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে ১৪ দলের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘আগামী ৯ অক্টোবর রাজশাহী ও ১৩ অক্টোবর খুলনায় ১৪ দলের বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। ১০ অক্টোবর নাটোরে ১৪ দলের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।’

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে নাসিম বলেন, ‘আবার চক্রান্ত শুরু হয়ে গেছে। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে, মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে চক্রান্ত শুরু হয়ে গেছে। এই ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। নেতাকর্মীদের সাবধানে থাকতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে। ডাক দিলেই আপনাদের বেরিয়ে আসতে হবে। ডাক দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘর থেকে বেরিয়ে আসার প্রস্তুতি নিয়ে থাকুন।’

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, ‘কোনো মানুষ যদি নদীতে পড়ে যায় সে বাঁচার জন্য খড়কুটো যা পায় তা ধরে বাঁচতে চায়। খালেদা জিয়ার ২০ দল ডুবে যাচ্ছে, ওই খড়কুটো যুক্তফ্রন্ট-গণফ্রন্ট, অমুক ফ্রন্ট ধরে তারা আজকে অনেক বড় জোট করতে চায়। কিন্তু কোনো জোটে কাজ হবে না। সবচেয়ে বড় জোট মানুষের জোট। সেই জোট শেখ হাসিনার সঙ্গে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে।’ তিনি বলেন, ‘আন্দোলনের নামে অনেকে রেললাইন তুলে ফেলার চেষ্টা করবে, পাহারা দিতে হবে যেন তারা তা করতে না পারে। আন্দোলনের নামে তারা রাস্তাঘাট বন্ধ করতে পারে, পাহারা দিতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে। সন্ত্রাসী কার্যকলাপ যারা করবে তাদের ধরিয়ে দিতে হবে, প্রতিহত করতে হবে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এ দেশে গণতান্ত্রিক সরকার কায়েম হবে। তাই ১৪ দলের নেতাকর্মীদের প্রতিজ্ঞা-শপথ নিয়ে ভবিষ্যতে প্রস্তুতি নিতে হবে।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘তারা ঐক্য করেছে, কিসের ঐক্য? তারা বাঘ মারার ডর দেখাচ্ছে। এই কামাল হোসেন পল্টনে জেনারেল ওসমানীর জনসভার আগের দিন দেশ থেকে পালিয়ে গেল। বি চৌধুরী বঙ্গভবন থেকে দৌড়ে মহাখালীর রেললাইনে পালাল। আরেক পলাতক তারেক রহমান, যে অর্থ পাচার করে বিদেশে পালিয়ে আছে। দুই পলায়নপর নেতা ও এক পলাতক এই তিনের ঐক্য হয়েছে। এটা পলায়নের চ্যাম্পিয়নদের ঐক্য। আজম খানের গানে আছে, বাঘ মারতে যামু, বন্দুক নিয়ে রেডি হইলাম আমি আর মামু। বাঘ মারতে যাওয়ার ডর আমাদের দেখিয়ে লাভ হবে না। সব ষড়যন্ত্র রুখেই দেশে নির্বাচন হবে।’

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘আজকে আমরা সমবেত হয়েছি। নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য, প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য একটি মহল এই মহানগর নাট্যমঞ্চে কয়েক দিন আগে হাতে হাত মিলিয়েছে—তাদের জবাব দিতে। এরা কারা? এরাই এক-এগারোর সেনাশাসিত সরকারের পরামর্শদাতা। বিভিন্ন দল থেকে বাদ পড়া, বহিষ্কৃত হওয়া নেতারা আজকে ঐক্যে যুক্ত হয়েছেন। আপনাদের (জাতীয় ঐক্যের) এত জনপ্রিয়তা থাকলে নির্বাচনে অংশ নিন।’

জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান ও পানিসম্পদমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ‘সামনে নির্বাচন আসছে, যথাসময়েই নির্বাচন হবে। নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। নির্বাচনের বিকল্প কিছু হতে পারে না। নির্বাচনের বিকল্প যা হয়, তাতে মানুষের কল্যাণ হয় না, যা এক-এগারোর সময়ে প্রমাণিত হয়েছে। ষড়যন্ত্রের জাল ভেদ করে সঠিক সময়েই নির্বাচন হবে। দুঃখের বিষয় হলো, যারা এক-এগারোর সময়ে নির্বাচন বন্ধের সঙ্গে যুক্ত ছিল তারাই এখন সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বলে। এটা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক।’

বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া বলেন, ‘ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যারিস্টাররা এক হয়ে রাজনীতিতে ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত শুরু করেছেন। ড. কামাল হোসেন, বি চৌধুরী, মান্না সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত করছেন। ১৪ দলের নেতাকর্মীরা যেকোনো ষড়যন্ত্র, চক্রান্ত প্রতিহত করবে।’

জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার বলেন, ‘দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতার ওপর যখনই আঘাত এসেছে তখনই ১৪ দল লড়াই করে তা রক্ষা করেছে। ভবিষ্যতেও জাতীয় ঐক্যের নামে যারা ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করছে তাদের প্রতিহত করবে ১৪ দল।’ তিনি বলেন, ‘বি চৌধুরী ও ড. কামাল হোসেন হচ্ছেন ষড়যন্ত্রকারী চক্র। নির্বাচন বানচালের চক্রান্ত করা হলে তাঁদের প্রতিহত করা হবে।’

সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যের নেতারা বসন্তের কোকিলের মতো। যখনই বসন্ত ভাব দেখেন তখনই তাঁরা কুহু কুহু ডাক দেন। ড. কামাল হোসেন, বি চৌধুরীরা হচ্ছেন এক-এগারোর মাইনাস টু ফর্মুলার নায়ক। সে সময়ে ব্যর্থ হয়ে তাঁরা আবার জোট গঠন করে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন।’

কর্মী সমাবেশে বক্তব্য দেন তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, জেপির মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম, ন্যাপের ইসমাইল হোসেন, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন, বাসদের আহ্বায়ক রেজাউর রশীদ খান, গণ-আজাদী লীগের এস কে সিকদার প্রমুখ।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY