রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের লক্ষ্যে মিয়ানমারের ওপর ধীরে ধীরে চাপ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামীকাল রবিবার থেকে এশিয়া সফর শুরু করছেন।
জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, ভিয়েতনাম ও ফিলিপাইনে তাঁর সফর শুরুর আগেই বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রণেতারা কংগ্রেসে মিয়ানমারের সামরিক কর্মকর্তাদের ওপর অবরোধ ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান ও রাখাইনে ত্রাণ কার্যক্রমের সুযোগের জন্য চাপ দিতে আগামী ১৫ নভেম্বর মিয়ানমার সফরে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন। এ সফরের আগে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি দেখতে বাংলাদেশ সফর করছে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল। ওই দল গতকাল কক্সবাজার সফরকালে মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়ানোর কথা বলেছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ট্রাম্প এশিয়া সফরের অংশ হিসেবে মিয়ানমারে না গেলেও দেশটির রোহিঙ্গা পরিস্থিতির দিকে দৃষ্টি রয়েছে ওয়াশিংটনের। এ মাসেই মিয়ানমার ট্রাম্প প্রশাসনের বড় বার্তা পাবে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের শরণার্থী, জনসংখ্যা ও অভিবাসন বিষয়ক ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি (সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী) সিমন হেনশর নেতৃত্বে ওই দলে আছেন গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও শ্রম বিষয়ক ব্যুরোর ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি স্কট বাসবি, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি টম ভাজদা এবং পূর্ব এশিয়া ও প্যাসিফিক ব্যুরোর অফিস পরিচালক প্যাট্রিসিয়া মেহোনি। তাঁরা গত সপ্তাহে মিয়ানমার সফরের পর বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। এ দলটি কক্সবাজারে গিয়ে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি সরেজমিনে গিয়ে দেখেছে।
আজ শনিবার সকালে প্রতিনিধিদলটি ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করবে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র হিদার নুয়ার্টও ঢাকায় এসেছেন।
আগামীকাল ঢাকায় বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বার্ষিক অংশীদারি সংলাপও অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পররাষ্ট্রসচিব মো. শহিদুল হক ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের রাজনৈতিক বিষয়ক আন্ডারসেক্রেটারি (পররাষ্ট্রসচিব) টমাস শ্যাননের যৌথ সভাপতিত্বে এবারের সংলাপে রোহিঙ্গা ইস্যুতে মানবিক ও কূটনৈতিক তৎপরতাই বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রণেতারা রোহিঙ্গা মুসলমানদের জাতিগত নিধনযজ্ঞের পরিপ্রেক্ষিতে মিয়ানমারের সামরিক কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ করে গত বৃহস্পতিবার কংগ্রেসে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এর আগেই এ ধরনের কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন শুরু করেছে। রয়টার্স জানায়, গত ২৫ আগস্ট মিয়ানমারে মানবিক সংকট শুরুর পর এটিই এ যাবৎ যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সবচেয়ে বড় হস্তক্ষেপ। তবে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাবে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির বেসামরিক সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়নি। ওই সরকারের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের অনেকের এখনো জোরালো সমর্থন আছে।
মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে দেশটিতে তার বিরূপ প্রভাব পড়বে বলে দাবি করেছেন স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির দপ্তরের মুখপাত্র য তে। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার পুনর্গঠন কাজ সরকার একা করতে পারবে না। তাতমাদোকে (মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর দাপ্তরিক নাম) সম্পৃক্ত হতে হবে। এটি স্পষ্ট। ২০০৮ সালে মিয়ানমারে প্রণীত সংবিধান অনুযায়ী সব কিছুই তাতমাদোর সঙ্গে আলোচনা করে করতে হয়। ’ য তে বলেন, রেক্স টিলারসন আগামী ১৫ নভেম্বর মিয়ানমারে এলে তাঁরা তাঁদের অবস্থান বোঝানোর চেষ্টা করবেন। এর আগে গত ২৬ অক্টোবর রোহিঙ্গা গণহত্যার মূল হোতা মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইংকে ফোন করে চলমান সংকট নিরসনে সরকারকে সমর্থন ও সহযোগিতা করার তাগিদ দেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন। এ ছাড়া তিনি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ভয়ংকর নৃশংসতার খবর ও চলমান মানবিক সংকটে উদ্বেগ এবং রোহিঙ্গাদের ফেরার সুযোগ সৃষ্টির আহ্বান জানান।













