২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে হামলার হুমকি দিয়ে বিশ্ববিখ্যাত সব ফুটবলারদের ছবি বিকৃত করে প্রকাশ করছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক ইসলামী জঙ্গি সংগঠন আইএস। নিজেদের জন্মস্থানে ধ্বংসের পর্যায়ে থাকা নরঘাতক সন্ত্রাসী দলটির এমন হুমকি অনেকে উড়িয়ে দিলেও সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে রাশিয়া।
সিরিয়ায় সামরিক যুদ্ধে সরাসরি লিপ্ত হবার কারণে দেশটি জঙ্গিদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
গত এপ্রিলে সেন্ট পিটার্সবার্গের বোমা হামলার মাধ্যমে রাশিয়ার মাটিতে প্রথম কোন বড় কোন সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলায় ১৫ ব্যক্তি নিহত হয়। গত আগস্টে সাইবেরিয়ায় আরেক দফা হামলায় দেশটিতে আতংকের সৃষ্টি হয়েছে। সাইবোরিয়ায় ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয় ৭ ব্যক্তিকে। যে হামলার দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেট (আইএস)। পাশপাশি কর্তৃপক্ষ জিহাদীদের আরো কিছু হামলার সম্ভাবনা নস্যাৎ করে দিয়েছে বলে রাশিয়ার স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো প্রকাশ করেছে।
রাশিয়ার নিরাপত্তা বিষয়ক স্বাধীন বিশেষজ্ঞ আলেক্সান্ডার গোল্টস বলেছেন, ‘২০১৮ সালের ১৪ জুন থেকে ১৫ জুলাই বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট চলাকালে রাশিয়ায় সন্ত্রাসী হামলার আশংকা একটি বাস্তবিক হুমকি। ‘
বিগত ২০ বছর ধরেই বেশ কয়েকবার সন্ত্রাসী হামলার মোকাবেলায় অভিজ্ঞতা অর্জন করে আসছে রাশিয়া।
এ সময় চেচনিয়ায় দুইবার যুদ্ধের মোকাবেলাও করতে হয়েছে। তবে গত ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের সমর্থনে মস্কো সিরিয়ায় সামরিক বাহিনী প্রেরণ করার পর থেকে সেখানে সন্ত্রসী হামলার মাত্রা বাড়তে থাকে।
গোল্টস বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা আইএস নির্মূলে সফল হয়েছে। কিন্তু হাজার হাজার রুশ নাগরিক ওই কথিত জিহাদী গোষ্ঠীতে যোগ দিয়েছিল। তারা এখন দেশে ফেরার চেষ্টা শুরু করেছে। ‘
ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিসের (এফএসবি) তথ্য মতে, প্রায় ২ হাজার ৯০০ রুশ জিহাদী সিরিয়ায় যুদ্ধ করেছে! এদের অধিকাংশই মুসলমান অধ্যুষিত ককেসাস প্রজাতন্ত্রের বাসিন্দা। মধ্য এশিয়ার আরো দুই থেকে ৪ হাজার জঙ্গি বর্তমানে রাশিয়ায় বসবাস করছে। অলিম্পিক গেমসসহ বিশ্বের সবচেয়ে হাইপ্রোফাইল ক্রীড়া ইভেন্টগুলো এখন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর একটি আদর্শ লক্ষ্যবস্তু।
হুমকিতে খেলোয়াড়রা
আইএস প্রপাগান্ডার অংশ হিসেবে আসন্ন টুর্নামেন্টে জড়িতদের কাছে প্রতিদিন ডজনে ডজনে হুমকি আসছে সামাজিক নেটওয়ার্কে। এদের অধিকাংশই দেয়া হচ্ছে খেলোয়াড়দের। তবে প্যারিসের ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল এন্ড স্ট্রেটেজিক রিলেশন্সএর পরিচালক পাসকাল বোনিফেসের মতে, ‘এগুলো করা হয় সবার দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য। ‘
বিশ্বের যে কোন ক্রীড়া ইভেন্টই সন্ত্রাসী হামলার হুমকিতে রয়েছে। কারণ এ সময় চারদিকে প্রচুর ক্যামেরা থাকে যার মাধ্যমে এসব হামলার দৃশ্য সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ থাকে। যার একটি প্রভাব পড়ে সব জায়গায়। ২০১৪ সালে সুচির ব্ল্যাক সি রিসোর্টে অনুষ্ঠিত শীতকালীন অলিম্পিকের কয়েকমাস আগে দক্ষিণ রাশিয়ার ভলগোগ্রাদ এলাকায় বোমা হামলা চালিয়ে ৩৪ ব্যক্তিকে হত্যা করেছিল সন্ত্রসীরা।













