
অস্ত্র মামলায় সাজাপ্রাপ্ত গোপালপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম তালুকদার এলাকাতেই অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় লোকজন। কিন্তু তিনি গ্রেপ্তার হননি। তবে আজ রোববার প্রকাশ্যে তাঁকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়নি। পুলিশ অবশ্য বলছে, সাইফুলের সাজা হওয়ার বিষয়ে কোনো কাগজপত্র থানায় আসেনি বলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না।
১৫ নভেম্বর অস্ত্র মামলায় সাইফুলকে ১৭ বছর কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। সাইফুল ২০১৬ সালের ১৬ অক্টোবর জামিনে মুক্তি পান। বর্তমানে কাগজে-কলমে তিনি ‘পলাতক’। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রায় ঘোষণার পর থেকেও তিনি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
সাইফুল গতকাল শনিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে এক মঞ্চে বক্তব্য দেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ ইউনেসকোর ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় গোপালপুর উপজেলা প্রশাসন আনন্দ শোভাযাত্রা ও সমাবেশের আয়োজন করে। গোপালপুর থানা সেতুর মোড়ে আয়োজিত ওই সমাবেশে সাজাপ্রাপ্ত সাইফুলকে বক্তৃতা করতে দেখে বিস্মিত হন গোপালপুরের বাসিন্দারা। বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় আজ রোববার এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আল মামুন জানান, শনিবার ওই অনুষ্ঠানে হুট করে সাইফুলের নাম ঘোষণা করা হয়। এরপর বক্তৃতা দিয়েই তিনি চলে যান। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি (ওসি) কথা বলেছেন। তবে রোববার পর্যন্ত সাইফুলের সাজা হওয়ার বিষয়ে কোনো কাগজপত্র থানায় আসেনি।
টাঙ্গাইলের ১ নম্বর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আবুল মনসুর মিঞা ১৫ নভেম্বর অস্ত্র মামলায় সাইফুলকে ১৭ বছর কারাদণ্ডের আদেশ দেন। মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ৮ এপ্রিল টাঙ্গাইল জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল সাইফুলের গোপালপুর উপজেলা সদরের নন্দনপুর এলাকার বাসভবনে অভিযান চালায়। এ সময় সাইফুল পালিয়ের যাওয়ার চেষ্টা করেন। পুলিশ তাঁকে ধরে ফেলে এবং তাঁর কাছ থেকে চারটি গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করে। পরের দিন ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) আসাদুজ্জামান টিটু বাদী হয়ে গোপালপুর থানায় সাইফুলের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে ডিবির এসআই মিজানুর রহমান তদন্ত শেষে সাইফুলের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। সাইফুল ২০১৬ সালের ১৬ অক্টোবর জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর থেকে পলাতক রয়েছেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি নুরুল ইসলাম। গতকাল শনিবার তিনি জানান, গত বছরের অক্টোবরে সাইফুল পলাতক হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।












