মুমূর্ষু অবস্থায় একটি ছাগল আনা হয় পশু হাসপাতালে। ছাগলটি দেখে চিকিৎসক বললেন, ‘অস্ত্রোপচার করতে হবে।’ প্রায় সোয়া দুই ঘণ্টার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম হলো এক ছাগলছানার। চিকিৎসক বললেন, ‘বাচ্চা ও মা উভয় সুস্থ আছে।’
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের পশু হাসপাতালে গতকাল মঙ্গলবার রাত সোয়া আটটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। বলা হচ্ছে, চকরিয়ায় ছাগলের অস্ত্রোপচার করে ছানা জন্মের ঘটনা এটাই প্রথম।
স্থানীয় বাসিন্দা ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের গাবতলী বাজার এলাকার ফালেছা বেগম নামের এক নারী একটি মা ছাগল নিয়ে গতকাল সন্ধ্যায় চকরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে আসেন। ভেটেরিনারি সার্জন ফেরদৌসী আকতার মা ছাগলটিকে পর্যবেক্ষণ করেন এবং অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, ‘গতকাল বিকেলে মা ছাগলটির পানি ভাঙা শুরু হলেও বাচ্চা হচ্ছিল না। এ কারণে ছাগলটি হাসপাতালে আনা হয়। ছাগলটি গর্ভধারণের তিন মাস আগে দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে ছাগলটির পেলভিক গার্ডলে (শ্রোণিচক্র) ক্ষতি হয়। ফলে ছাগলের প্রসূতি অবস্থায় যতটুকু সম্প্রসারণ হওয়ার প্রয়োজন ছিল, সেটি হয়নি। এ কারণে ছাগলটির স্বাভাবিক প্রসব সম্ভব হয়নি।’
সার্জন ফেরদৌসী আকতার প্রথম আলোকে বলেন, ‘হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক সাজিদ হাসান ও ইন্টার্ন ভেটেরিনারি ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট মো. বাবরকে নিয়ে সিদ্ধান্ত নিলাম অস্ত্রোপচার করাতে হবে। অপ্রতুল যন্ত্রপাতি ও হাসপাতালের অনুপযুক্ত পরিবেশের পরও সিজার করা হয়েছে। এতে সফলতাও পাওয়া গেছে। অনেকেই জানেন না পশুরও সিজারের মাধ্যমে বাচ্চা হয়।’
ছাগলটির মালিক ফালেছা বেগম হাসিমুখে বলেন, ‘ছাগলটি মরে যাবে মনে করেছিলাম। তবে ছাগলেরও যে এভাবে বাচ্চা হয়, এই প্রথম দেখলাম। এটা কখনো শুনিনি। মা ছাগল ও বাচ্চা ছাগল উভয় এখন পুরোপুরি সুস্থ।’













