তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেছেন, দেশে জঙ্গিদমন যুদ্ধের ভেতরেই সমাজতন্ত্রের পথে সংগ্রাম জারি রাখতে হবে। জঙ্গি থেকে গণতন্ত্রকে নিরাপদ করা আর বৈষম্যের অবসানে সমাজতান্ত্রিক সংগ্রাম চলবে সমানতালে।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার সমাজতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করে সংবিধানে প্রতিস্থাপন করেছে এবং মেহনতী মানুষকে মর্যাদা ফিরিয়ে দিয়েছে’।
রাশিয়ার ঐতিহাসিক ‘অক্টোবর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবে’র শতবর্ষ উপলক্ষে রোববার বিকালে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ আয়োজিত লাল পতাকা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় হাসানুল হক ইনু একথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশে যে বিস্ময়কর উন্নয়ন ঘটছে তার সুফল সাধারণ মানুষের ঘরে পৌঁছাতে হলে সংবিধানের পাতা থেকে সমাজতন্ত্রকে জীবনের পাতায় কার্যকর করতে হবে, তবেই বৈষম্যের অবসান ঘটবে।
তিনি বলেন, বৈষম্য অবসানে সমাজতন্ত্রই একমাত্র পথ এবং সমাজতন্ত্রই শ্রমিক-কৃষক-গরীব-শোষিত মানুষের মুক্তি সংগ্রামের চিরন্তন দর্শন।
স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস টেনে তিনি আরও বলেন, তিরিশ লাখ শহীদের রক্ত দিয়ে সংবিধানে রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসাবে সমাজতন্ত্র অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। সামরিক ও স্বৈরশাসকরা সংবিধান থেকে সমাজতন্ত্র কেটে বাদ দিয়ে দেশকে বাজার অর্থনীতির হাতে তুলে দিয়ে অন্ধকারে ঠেলে দিতে চেয়েছে বারবার।
সমাজতন্ত্র এমনি আসবে না উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, জঙ্গি-রাজাকার ও তাদের দোসররা যেমন শান্তি, উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের শত্রু, তেমনি সমাজতন্ত্রেরও শত্রু। তাই এই অপশক্তি দমনের কাজ আর শ্রমিক-কৃষকের সংগ্রামের পথে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কাজ করতে হবে একসাথে, ঐক্যবদ্ধভাবে।
জাসদের ঢাকা মহানগর সমন্বয়ক মীর হোসাইন আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এমপি।
সমাবেশ শেষে লাল পতাকায় সুসজ্জিত জাসদের বর্ণাঢ্য মিছিল নগরীর রাজপথ প্রদক্ষিণ করে জিরো পয়েন্টে গিয়ে সমাপ্ত হয়।













