ভারতের কমিউনিস্ট ও খ্রিষ্টান-অধ্যুষিত রাজ্যেও বিজেপির অগ্রযাত্রা অব্যাহত। উত্তর-পূর্ব ভারতের ত্রিপুরায় ২৫ বছরের বাম শাসনের পতন ঘটেছে নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহদের আক্রমণে। মেঘালয়ে টানা ১৫ বছরের কংগ্রেস শাসনেরও ঘটতে চলেছে পতন। বন্ধু পাল্টিয়ে ও আঞ্চলিক দলের হাত ধরে নাগাল্যান্ডেও প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে বিজেপিরই জোট সরকার। বলতে গেলে, বিজেপির দাপটে কংগ্রেস এখন কোণঠাসা।
উত্তর-পূর্ব ভারতের তিন রাজ্যের ৫২ লাখ ৮১ হাজার ১৩০ ভোটার ১৭৭ জন জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে ভোট দেন। গত শনিবার ছিল ভোট গণনা।
৬০ সদস্যের ত্রিপুরা বিধানসভার ঘোষিত ৫৯ আসনের মধ্যে বিজেপি একাই পেয়েছে ৩৫টি আসন। তাঁদের জোটসঙ্গী আঞ্চলিক দল আইপিএফটি পেয়েছে ৮টি আসন। অন্যদিকে, বামেদের আসন ৫১ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১৬-তে। মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার জিতলেও তাঁর দলের বহু মন্ত্রীই এবার হার স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে সিপিএমের ৬৪ শতাংশ ভোট এবার কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪২ দশমিক ৭ শতাংশে।
অন্যদিকে, বিজেপি একাই পেয়েছে ১ দশমিক ৫৬ শতাংশ ভোটের বদলে ৪৩ শতাংশ। সঙ্গে রয়েছে তাঁদের জোট-শরিক আইপিএফটির ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট।
মেঘালয়ে কংগ্রেস একক বৃহত্তম দল হলেও আঞ্চলিক দলগুলোকে নিয়ে বিজেপিই এগিয়ে। বিজেপি ২টি আসন পেলেও এনপিপির ১৯ এবং অন্যান্য আঞ্চলিক দলকে এককাট্টা করে সরকার গঠনে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে তারা।
নাগাল্যান্ডে বিজেপি জোট ২৭টি আসন পেলেও আঞ্চলিক দলের সমর্থন নিয়ে সহজেই সরকার গড়বে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। আর সেটা পারলেই উত্তর-পূর্ব ভারতের সাত রাজ্যের মধ্যে মিজোরাম বাদে সব রাজ্যই চলে আসবে বিজেপি জোটের দখলে। মিজোরামেও এ বছরই ভোট। তাই বিজেপি এখন থেকেই কংগ্রেসমুক্ত উত্তর-পূর্ব ভারতের ডাক দিচ্ছে।
এবারের নির্বাচনে কংগ্রেস পুরো অপ্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। মেঘালয়ে ২১টি আসন পেলেও নাগাল্যান্ড ও ত্রিপুরায় খাতাই খুলতে পারেনি। শুধু তা-ই নয়, ত্রিপুরার কোনো কেন্দ্রেই দ্বিতীয় স্থানটুকু পর্যন্ত পায়নি কংগ্রেস। একই হাল তৃণমূলেরও।













