ভ্রমনের জন্য আমি সব সময় দেশী কোন এয়ার লাইনসকে পছন্দ করি। সবাই যেটা সবচেয়ে অপছন্দ করে- সেই বাংলাদেশ বিমানের টিকেটের চেষ্টা করি প্রথম। ওটা না পেলে ইউ-এস বাংলা, রিজেন্ট বা নভো এয়ার। আগে টিকেট করার সময় এতো কিছু ভাবতাম না। কিন্তু বছর কয়েক হলো- দেশী এয়ার লাইন্স থাকলে আমি মোটেও বিদেশী এয়ার লাইন্সে চড়ি না। কারণ কি জানেন? আমার ধারনা বাংলাদেশের পাইলটরা দুনিয়ার সেরা। আমার কাছে তাদের স্বপক্ষে কোন প্রমান বা সার্টিফিকেট নেই। তবে পরিসংখ্যান তাদের পক্ষে। গত ৩৪ বছর তারা কোন প্রাণঘাতী দূঃর্ঘটনা ছাড়াই ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এই সময়ে কত হাজারবার তারা নিরাপদে টেক অফ এবং ল্যান্ডিং করেছে তার কোন হিসাব আছে? একটা দুইটা দূঘটনা ঘটতেই পারে এবং সেটা নেহায়েতই দূর্ঘটনা। বেসরকারি এয়ার লাইন্সের পাইলটদের বেশিরভাগই বাংলাদেশ এয়ার ফোর্সের সাবেক পাইলট। তাদের পেশাদারিত্ব ও দক্ষতা পৃথিবীর বহু দেশের পাইলটদের থেকে উন্নতমানের।
আমাদের সমস্যা হলো দূর্ঘটনা কাকে বলে আমরা সেটাই বুঝি না। কিন্তু একটা কিছু ঘটার পরে দেখা যায় ওই বিষয়ে হাজার হাজার বিশেষজ্ঞ চারপাশে চক্কর খাচ্ছে! মাছ বিক্রেতা থেকে শুরু করে ব্যরিস্টার- সবাই দেখি এয়ারক্রাফট এক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন এক্সপার্ট! তারাই আবার ক’দিন পরে স্যাটেলাইট বিশেষজ্ঞ! আজ একটা ভবন ধ্বস হলে কাল সবাই সিভিল ইন্জিনিয়ার ! আর ডাক্তারি তো এদেশের মানুষের জন্মগত পেশা !!
ইউ-এস বাংলার নেপাল দূর্ঘটনার জন্য দায়ী কে সেটার রিপোর্ট এখনো সম্ভবত জানা যায়নি। চট্টগ্রামে যে ফ্লাইটটা জরুরী অবতরণ করলো, সেটা দূর্ঘটনা ছাড়াই অবতরণ করতে পেরেছে। আচ্ছা বলেন তো, বিমানে যখন কোন কারিগরী সমস্যা নজরে আসে- তখন পাইলটের কি করা উচিৎ? দেশের রাজনীতিবিদদের মতো-চোখ কান বন্ধ করে জেদ ধরে বসে থাকবে? নাকি যে বন্দরের উদ্দেশে উড্ডয়ন করেছি সেখানে ছাড়া আর কোথাও যাবো না- এমন গুয়ার্তুমি করতে হবে? পাইলটের যা করা দরকার ছিল- সেটাই করেছেন তিনি এবং অসাধারণ দক্ষতার সাথেই করেছেন। যেভাবে বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষনিকভাবে দূর্ঘটনা মোকাবেলার প্রস্তুতি নিয়েছে সেটাও অভিনন্দনযোগ্য।
আর যারা সামরিক বাহিনীর লোকদের মনে করেন অযথা বসে বসে দেশের টাকা সাবার করছে, তারা দেখলেন তো এয়ার ফোর্স কিভাবে আকাশ ও ভূমিতে এক সাথে আপনাকে উদ্ধারের জন্য এগিয়ে এসেছে? তাদের রেসপন্স অসাধারণ।
আমরা না বুঝে যদি হুজুগে উন্মাতাল হয়ে দেশি বিমান কোম্পানীর বিপক্ষে অপপ্রচারে মত্ত হই- তাহলে খুব শীঘ্রই দেশীয় কোম্পানী গুলো বন্ধ হয়ে যাবে। শুণ্যস্থান দখল করবে বিদেশীরা- বিশেষত ভারতীয়রা। তবে তখনো বিমান জরুরী অবতরণ করবে, এক্সিডেন্ট করবে। কারণ এক্সিডেন্ট সব দেশেই হয়। সব কালেই হয়। এক্সিডেন্ট ইজ এক্সিডেন্ট।

পারভেজ মাসুদ
ব্যাবপস্থাপনা পরিচালক, ইমপ্রেস করপোরেশন লিঃ













