যাত্রীদের পানিও দেয় না এয়ার এশিয়া!

562

ঢাকা: গত অক্টোবরে এয়ার এশিয়ার একটি ফ্লাইটে কুয়ালালামপুর থেকে মেলবোর্নে যান অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক পেরিক্লিস। ভ্রমণে নিজের দুঃসহ অভিজ্ঞতার বর্ণণা করে এয়ারলাইন্স রেটিং.কম এ তিনি অভিযোগ করেন, ‘ফ্লাইটে অতিরিক্ত শীত অনুভব করছিলাম আমি। কারণ এয়ার কন্ডিশনের ঠাণ্ডার মাত্রা অনেক বেশি ছিল এবং অামি তৃষ্ণা অনুভব করছিলাম।

তিনি বলেন, ‘আমি বিমানবালাকে এক গ্লাস পানি এবং কম্বলের জন্যে বলি। একই সঙ্গে বিল পরিশোধের জন্যে আমি কার্ড প্রদান করি। কিন্তু তিনি ফিরে এসে জানান, আমরা শুধু ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করি কিন্তু আপনার এটি ডেবিট কার্ড। আমরা এটি ব্যবহার করতে পারবো না।’

২২ অক্টোবর এয়ারলাইন্স.কম’এ নিজের মতামতে পেরিক্লিস বলেন, এটা আমার জন্যে অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা। মেলবোর্নে পৌঁছে এক সপ্তাহ পর আমি জ্বরে আক্রান্ত হই এবং এখনো ভুগছি। এটাই ছিল এয়ার এশিয়ায় আমার প্রথম এবং শেষ ভ্রমণ।

গত ১০ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক ক্যারোলিন তার মতামতে বলেন, আমি সাড়ে ৭ ঘণ্টার ভ্রমণে কুয়ালালামপুর থেকে সিডনি গিয়েছিলাম। আমি সুন্দরভাবে বিমানবালার কাছে পানি চাইলাম। আমি ভেবেছিলাম এত দীর্ঘ ভ্রমণে এটি স্বাভাবিক। কিন্তু সেই স্টাফ ছিলেন খুবই রূঢ় এবং কিছুই দিলেন না। বাজে ভঙ্গিতে জানালেন, যারা অগ্রিম বুকিং দিয়েছে তারাই শুধু পানি পাবেন।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটা খুবই অমানবিক সাড়ে সাত ঘণ্টার ভ্রমণে পানি না দেয়া এবং পানির জন্যেও অগ্রিম বুকিং দেয়া।

বুকিং দিতে না পারার বিষয়ে তিনি বলেন, এয়ার এশিয়ায় থাইল্যান্ডের ফুকেট থেকে কুয়ালালামপুরেও আমাদের ফ্লাইট দেরি হয়। এ কারণে যখন কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে পৌঁছাই তখন আমরা পানি পান করতে পারিনি এবং তাড়াহুড়োর কারণে বুকিংও দিতে পারিনি। এতো দীর্ঘ ভ্রমণে পানি না দেয়া সত্যিই অযৌক্তিক।

‘আমি এর আগেও অনেক এয়ারলাইন্সে ভ্রমণ করেছি। কিন্তু সাড়ে ৭ ঘণ্টার দীর্ঘ ভ্রমণে টাকা না দিলে পানি দেয়ো হবে না এমন অভিজ্ঞতা কখনো হয়নি।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমার দেখা সবচেয়ে বাজে এয়ারলাইন্স এবং স্টাফ এয়ার এশিয়ার। আমি কাউকে এয়ার এশিয়ায় ভ্রমণের জন্যে পরামর্শ দেবো না এবং নিজে কখনোই এয়ার এশিয়ায় ভ্রমণ করবো না।

তবে বাজেট এয়ারলাইন্স এভাবেই চলে বলে ক্যারোলিনকে জবাব দেন এয়ারলাইন্স.কম এর সম্পাদক।

প্রথমবার ২০০৯ সালের মার্চে ঢাকা-কুয়ালালামপুর রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করে এয়ার এশিয়া। ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ভ্রমণের কয়েক মাস আগেই টিকেট কিনতে হতো। কিন্তু এর দুই বছর পরই ২০১১ সালের ১ জুলাই হঠাৎই এয়ার এশিয়া নিজেদের সব ফ্লাইট ‘স্থগিত’ করে। যারা অগ্রিম টিকেট করেন, তাদের টাকাও আত্মসাৎ করে কর্তৃপক্ষ। অগ্রিম টিকেটের টাকা আর ফেরত দেয়নি। দীর্ঘদিন এ ব্যাপারে আদালতে মামলা চলে।

এরপর আবারো টোটাল এয়ার সার্ভিসের ব্যবস্থাপনায় ২০১৫ সালের ১০ জুলাই থেকে বাংলাদেশে যাত্রা করে এয়ার এশিয়া। ৬৫ হাজার টাকায় ঢাকা থেকে সিডনি’র ফ্লাইট ঘোষণা করে। তবে কুয়ালালামপুরে ট্রানজিট নিয়ে সিডনির পথে ওই ভ্রমণে বাজে অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন যাত্রীরা।

বাংলাদেশ সময়: ২০৫৭ ঘণ্টা, অক্টোবর ২৫, ২০১৬

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY