সরকার এখন বিচার বিভাগের প্রতিপক্ষ

670

আলোচনা সভায় ফখরুল

সরকার বিচার বিভাগের ‘প্রতিপক্ষ’ হিসেবে অবস্থান নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী যে কথা বলেছেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী যে কথা বলেছেন, এতে খুব পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে যে এই সরকার বিচার বিভাগের প্রতিপক্ষ হিসেবে অবস্থান নিয়েছে।
গতকাল বুধবার দুপুরে ঢাকা আইনজীবী সমিতি ভবনে এক আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের উদ্যোগে বিএনপির সদস্য সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন উপলক্ষে এ সভা হয়।
সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা খুব পরিষ্কার করে বলতে চাই, এই রায়ের যে অবজারভেশন, এটা বাংলাদেশের মানুষের প্রাণের কথা। সেটাই সুপ্রিম কোর্ট বলেছেন। সুতরাং দেশের ১৬ কোটি মানুষ এই রায়ের অবজারভেশনের সঙ্গে আছে এবং তারা একমত।’
বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এই রায় দেওয়ার পরে, অবজারভেশন দেওয়ার পরে মন্ত্রিসভায় যে আলোচনা হয়েছে এবং সরকারের কিছু মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের কিছু নেতা যে ভাষায় কথা বলছেন, আমি জানি না আপনারা ভালো বলতে পারবেন, তা আদালত অবমাননার দায়ে পড়ে কি না?’

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার সুপরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রের যে প্রধান তিনটি স্তম্ভ, সেই স্তম্ভগুলোকে ধ্বংস করে দিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করছে। বিচার বিভাগের সঙ্গে পার্লামেন্টের একটা বিরোধ তারাই তৈরি করে দিয়েছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, এই রায় একটি ঐতিহাসিক দলিল। আপিল বিভাগকে সংবিধানের অভিভাবক বলা হয়। সংবিধানের যেখানে যেখানে ত্রুটি থাকে অথবা যে আইনগুলো সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, আপিল বিভাগ সেই বিষয়গুলোয় মতামত দেন। সংসদে যে আইনগুলো পাস করা হয়েছে, সংবিধান যে সংশোধন করা হয়েছে, সে সম্পর্কে এর আগেও আপিল বিভাগ মতামত দিয়েছেন। জনগণের যেটা প্রাপ্য, জনগণের যে আশা-আকাঙ্ক্ষা সেটাই তাঁরা বলেছেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, এই সরকারের যদি ন্যূনতম গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাস থাকত, তাহলে সেই দিনেই তারা পদত্যাগ করত। কারণ তাদের আর এই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকার কোনো নৈতিক অধিকার নেই।

বিএনপির মহাসচিব সরকারকে পদত্যাগ করে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘এই সরকার যত বেশি দিন থাকবে, ততই বাংলাদেশ অতল গহ্বরে রসাতলে যাবে। গত কয়েক দিনের খবরের কাগজে দেখবেন, কীভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে, কীভাবে ধর্ষণ বেড়েছে, কীভাবে খুন বেড়েছে, কীভাবে দেখেছেন যে সব আইন অমান্য করে এই ছাত্রলীগ-যুবলীগ নিজেরা নিজেদের মধ্যে লড়াই করে মানুষকে হত্যা করছে।’

ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলমের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন আইনজীবী নেতা সানাউল্লাহ মিয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকদার ও আজিজুল ইসলাম খান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY