সকালে ঘুম থেকে উঠে বা বিকেলের ক্লান্তিটা দূর করতে কফির বিকল্প ভাবতে পারেন না অনেকেই। শুধু ঘুম তাড়াতেই নয়, কফির আরও নানাবিধ উপকারিতার কথা বলে থাকেন পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু বিশ্বের কফি শিল্প মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে ‘কফি রাস্ট’ নামের এক প্রকার রোগের কারণে।
কফি রাস্ট শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে কফি চাষিদের আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি এক প্রকার ফাঙ্গাস সংক্রমিত রোগ। হেমিলিয়া ভাস্টাট্রিক্স (Hemileia Vastatrix) নামক ফাঙ্গাস এর জন্য দায়ী।
এ ফাঙ্গাস সংক্রমণে কফি গাছের পাতায় বাদামি রঙের ছোপ দেখা দেয়। এই ছোপগুলো দেখতে অনেকটা লোহার মরিচার মতো হওয়ায় রোগটির নাম দেওয়া হয় কফি রাস্ট। রোগাক্রান্ত গাছের পাতা সবুজ থেকে বাদামি রং ধারণ করতে থাকে। এক পর্যায়ে গাছটি বীজ উৎপাদন ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।
উনিশ শতকের শেষ দিকে শ্রীলংকা, ফিলিপাইনসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো কফি রপ্তানিতে শীর্ষে অবস্থান করছিল। কিন্তু কফি রাস্টের কারণে দেশগুলো কফি উৎপাদন থেকে সরে এসেছে। শ্রীলংকার কফি শিল্প ধ্বংসের জন্য এ রোগকেই দায়ী করেন ইতিহাসবিদরা।
বিশ্বে কফি উৎপাদন ও রপ্তানিতে কলাম্বিয়ার অবস্থান তৃতীয়। ২০১৬ সালে কফি রপ্তানি করে দেশটি দুই দশমিক চার বিলিয়ন বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। কলাম্বিয়ার মোট রপ্তানি আয়ের সাত দশমিক সাত শতাংশই আসে কফি খাত থেকে। কিন্তু গত কয়েক দশক ধরে দেশটির কফি শিল্প মারাত্মক ক্ষতির মুখোমুখি হতে হয়েছে কফি রাস্টের কারণে।
তাই অনেক বছর ধরেই কলাম্বিয়ার গবেষকরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন কফি রাস্টের হাত থেকে সেদেশের কফি শিল্পকে বাঁচানোর উপায় খুঁজে বের করতে। সম্প্রতি একটি সমাধানও খুঁজে পেয়েছেন তারা।
গবেষণায় দেখা গেছে, সব ধরনের কফি গাছ এ রোগে আক্রান্ত হয় না। গবেষণার স্বার্থে কফি গাছকে দু’টি প্রজাতিকে ভাগ করা হয়েছে। এদের একটির প্রচলিত নাম ‘বিউটি’। এ প্রজাতির কফি হয় স্বাদে, গন্ধে ও মানে উন্নত। উৎপাদনও তুলনামূলক ব্যয়বহুল। তবে













