মাঠের ভেতরে তাঁরা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। কিন্তু মাঠের বাইরে? বছরে দু-একবার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সামান্য কথাবার্তা আর করমর্দনের আনুষ্ঠানিকতা রক্ষা। এর বাইরে এমন বিশেষ কোনো উষ্ণতা দেখা যায়নি মেসি-রোনালদোর সম্পর্কে। বরং দুজনের সম্পর্কটা যে বেশ শীতল, সেটা তাঁদের কথাতেই পরিষ্কার। রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড গত বছর বলেছিলেন, মেসির সঙ্গে তাঁর ভালো বন্ধুত্ব নেই। এবার মেসি ভাষ্য, কখনো রোনালদোর বন্ধু হতে পারবেন কি না, সেটা জানা নেই তাঁর।
চতুর্থবারের মতো ‘ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু’ জয়ের পর স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘মার্কা’কে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন মেসি। দীর্ঘ সেই সাক্ষাৎকারে বার্সা ফরোয়ার্ডের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, রোনালদো আর তাঁর মধ্যে বন্ধুত্ব সম্ভব কি না? মেসির ভাষ্য, ‘জানি না, সেটা কখনো সম্ভব হবে কি না। একসঙ্গে সময় কাটানো আর একে-অন্যকে জানার মধ্য দিয়ে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। আমাদের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই, কারণ শুধু পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আমাদের দেখা হয় এবং শুধু তখনই কথাবার্তা চলে। এমনিতে সব ঠিক আছে, কিন্তু আমাদের জীবন খুব কমই এসব টপকাতে পেরেছে।’
সাক্ষাৎকারে পারিবারিক জীবন নিয়েও বেশ খোলামেলা কথা বলেছেন মেসি। জীবনসঙ্গী আন্তোনেয়া রোকুজ্জো আর সন্তানদের সঙ্গে ঘরেও ফুটবল নিয়ে কথা হয় কি না, এ প্রশ্নের জবাবে বার্সা তারকা বলেন, ‘ঘরে আমরা খুব কমই ফুটবল নিয়ে কথা বলি। তাদের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলতে হলে জাতীয় দল কিংবা ক্লাবে খুব বড় কিছু ঘটতে হবে।’ মেসি আরও বলেন, দুই ছেলে থিয়াগো আর মাতেও খুব কমই বাবার সঙ্গে ফুটবল খেলে। মেসিকে তাদের সঙ্গে খেলতে খুব কমই চাপাচাপি করে দুই ছেলে।
মেসির জীবনে সবচেয়ে সুন্দর ঘটনা কোনটি? অনেকেই বলবেন, কী আবার, ফুটবল! তাঁর বার্সা ক্যারিয়ার, থরে-বিথরে পাওয়া সাফল্য—এসবই তো মেসির জীবনের অলংকার। ভুল! ফুটবল নয়, দুই ছেলেই তাঁর চোখের মণি। তাই ‘বাবা’ মেসির ভাষ্য, ‘পারিবারিক জীবন আপনার দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে দেবে। সত্য কথা, বাবা হতে পারাই আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর ঘটনা।’













