দলেই সাংসদের প্রতিদ্বন্দ্বী

414

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি। তাই চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে জিততে বেগ পেতে হয়নি আওয়ামী লীগের প্রার্থী দিদারুল আলমের। কিন্তু আগামী নির্বাচনে তাঁকে প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হবে। বড় চ্যালেঞ্জটা আসতে পারে দলের ভেতর থেকেই। এখানে আওয়ামী লীগের আরও দুজন মনোনয়নপ্রত্যাশী মাঠে রয়েছেন।

দলীয় সূত্র বলছে, সীতাকুণ্ড থেকে বর্তমান সাংসদ দিদারুল আগামী নির্বাচনেও মনোনয়ন চাইবেন। পাশাপাশি সীতাকুণ্ড উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান এস এম আল মামুন এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল বাকের ভূঁইয়া মনোনয়ন চাইবেন। এ তিনজনই উপজেলার তৃণমূল পর্যায়ে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন।

সীতাকুণ্ড উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ ইসহাক বলেন, সাংসদ দিদারুল আলম সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জোরালো ভূমিকা রাখছেন। সাধারণ মানুষ এমন চরিত্রের নেতা পছন্দ করে। তাই দিদারুলের বিকল্প সীতাকুণ্ডে নেই।

দিদারুলের পক্ষের অভিমত হলো, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াত জোট সারা দেশে সহিংস আন্দোলন চালায়। এর মধ্যে সীতাকুণ্ডে হিংসাত্মক ঘটনার মাত্রা ছিল ভয়াবহ। এতে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য মুখ থুবড়ে পড়ার উপক্রম হয়েছিল। আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাংসদ মরহুম আবুল কাশেম সেই সহিংস তৎপরতা দৃঢ়তার সঙ্গে মোকাবিলা করতে পারেননি। এ কারণেই তিনি আর মনোনয়ন পাননি। তাঁর শূন্যস্থান পূরণ হয় দিদারুল আলমকে দিয়ে, যিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলমের ভাতিজা।

সাংসদ দিদারুল আলম বলেন, ‘একটি কঠিন পরিস্থিতিতে আমি সীতাকুণ্ড থেকে নির্বাচিত হই। তখন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অসংখ্য গাড়ি পেট্রলবোমা দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করেছি।’

সীতাকুণ্ডের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন ভালো, এ কথা স্বীকার করছে আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী এস এম আল মামুনের পক্ষও। কিন্তু এর কৃতিত্ব কার, সে বিষয়ে তাদের ভিন্নমত রয়েছে।

এ অংশের অভিমত হলো, সাংসদ দিদারুল সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন, এ কথা সত্যি। এ কারণে এলাকায় তাঁর সুনাম বেড়েছে। কিন্তু বাস্তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দৃঢ়তার কারণেই সীতাকুণ্ডবাসী স্বস্তিতে আছে।

 এস এম আল মামুন সাবেক সাংসদ আবুল কাশেমের ছেলে। তিনি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবলীগের সভাপতি। আল মামুনও বলছেন, সীতাকুণ্ডে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় ভালো। তবে তিনি বলেন, উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি হিসেবে ইউএনও দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন। এ কারণেই এখানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।

উন্নয়ন নিয়ে ভিন্নমত

বর্তমান সাংসদের আমলে সীতাকুণ্ডে উন্নয়ন নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে ভিন্নমত পাওয়া গেছে। সাংসদবিরোধীদের অভিযোগ, আগের সাংসদ আবুল কাশেমের আমলের তুলনায় বর্তমান সীতাকুণ্ডে উন্নয়ন কম হচ্ছে।

 এস এম আল মামুন বলেন, ‘বর্তমান সাংসদের আমলে এলাকায় উন্নয়ন তেমন হয়নি। অথচ আমার বাবা ব্যাপক উন্নয়নকাজ করেছিলেন। বাবার অসমাপ্ত কাজ এগিয়ে নিতেই আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ মনোনয়ন চাইব।’

তবে উন্নয়ন নিয়ে এমন অভিযোগ উড়িয়ে দিচ্ছেন বর্তমান সাংসদ দিদারুল আলম। তিনি উন্নয়নকাজের উদাহরণ দিতে গিয়ে ৪১ কোটি টাকা ব্যয়ে সীতাকুণ্ডের অরক্ষিত বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ শুরু হতে যাওয়া এবং সরকারি বরাদ্দে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার এবং নিজের পকেটের টাকায় স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠার কথা বলেন।

সাংসদ বলেন, ‘দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় সীতাকুণ্ডে ব্যাপক উন্নয়নকাজ হয়েছে। সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের উৎপাত বন্ধ করেছি। মাদকের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করেছি। এখন আমার নেত্রী শেখ হাসিনা আমার কর্মকাণ্ড বিবেচনা করবেন। এ ছাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগও আমার সঙ্গে আছে।’

তবে পুরো উপজেলা আওয়ামী লীগকে নিজের পাশে পাচ্ছেন না সাংসদ। কারণ, সীতাকুণ্ড আওয়ামী লীগেরই এক শীর্ষ নেতা দলের কাছে মনোনয়ন চাওয়ার আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

 উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল বাকের ভূঁইয়া বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করে আসছি। আগামী নির্বাচনে দলের কাছে মনোনয়ন চাইব।’ অবশ্য, সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থী সম্পর্কে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY