সিটি মেয়রের সহযোগিতা চান মাছ ব্যবসায়ীর

478
পাথরঘাটার ফিশারিঘাটে মৎস্যজীবীদের ওপর পুলিশি হামলা ও হয়রানির প্রতিবাদে গতকাল মানববন্ধন করে সোনালি যান্ত্রিক মৎস্য শিল্প সমবায় সমিতি। ছবিটি বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম নগরের প্রেসক্লাবের সামনে থেকে তোলা l

পাথরঘাটা ফিশারিঘাটে নির্বিঘ্নে মাছ ব্যবসা করতে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের কাছে সহযোগিতা চেয়েছে সোনালি যান্ত্রিক মৎস্য শিল্প সমবায় সমিতি লিমিটেড। গতকাল বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এই সহযোগিতা চায়।

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সদস্য মোহাম্মদ মহসিন বলেন, ২০০ বছরের পুরোনো ফিশারিঘাটের ওপর স্থানীয় ৫০ হাজার গরিব মানুষের ভাগ্য জড়িত। এ বাজারের ওপর নির্ভরশীল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিবারের ভরণপোষণ—ফুটপাতে ব্যবসা করতে অন্য হকারদের মতো এই গরিব মানুষদের সুযোগ না দিলে তাঁদের রুটি-রুজির পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে।

মেয়র নাছিরের সহযোগিতা চেয়ে মহসিন আরও বলেন, নগরের হকারদের শৃঙ্খলার মধ্যে আনা হয়েছে। একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নগরের হকারেরা ব্যবসা করার সুযোগ পাচ্ছে। তেমনি ফিশারিঘাটের গরিব মানুষগুলো রাত ৩টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত ব্যবসা করার সুযোগ পেলে তাঁদের পরিবারের কষ্ট দূর হবে। মধ্যরাতে এমনিতে মানুষের বিচরণ কম থাকে। ফিশারিঘাটে ব্যবসা করলে নগরবাসীর কোনো সমস্যা হবে না।

সংগঠনের আহ্বায়ক জানে আলম বলেন, আগে ফিশারিঘাটে প্রতিদিন গড়ে ৫ কোটি টাকার মাছ বিক্রি হতো। নানা ষড়যন্ত্র ও প্রতিকূল পরিবেশের কারণে তা ১ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। অথচ এই বাজারে ২০০ বছর ধরে মাছ বিক্রি হয়ে আসছে। হঠাৎ করে ফিশারিঘাট থেকে পাইকারি মাছ ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করে দেওয়ায় অনেকে বেকার হয়ে গেছে।

অন্য ব্যবসায়ীরা বলেন, ফিশারিঘাটের শৃঙ্খলা রক্ষায় ২৬ জন নিরাপত্তাকর্মী রয়েছে। রাস্তার ওপর কাউকে বসতে দেওয়া হয় না। আড়তের ভেতরে এবং ফুটপাতে মাছের ব্যবসা চলছিল। কিন্তু এখন ফুটপাত দূরের কথা আড়তেও ঢুকতে দিচ্ছে না পুলিশ।

গতকাল সংবাদ সম্মেলনের আগে প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে ফিশারিঘাটের মাছ ব্যবসায়ীরা।

প্রসঙ্গত, গত ২২ ফেব্রুয়ারি পাথরঘাটার মাছের আড়ত বাকলিয়ার চর চাক্তাই এলাকায় সরিয়ে নেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। এ কারণে ইকবাল রোডের ফিশারিঘাটের পাইকারি মাছ ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। গত ১৫ মার্চ নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী পাথরঘাটায় সোনালী যান্ত্রিক মৎস্য শিল্প সমবায় সমিতির ব্যানারে সমাবেশ করে সেখানে আবার মাছের বাজার চালুর ঘোষণা দেন। পরদিন ১৬ মার্চ ভোর থেকে আবার সেখানে মাছের পাইকারি ব্যবসা শুরু হয়।

চট্টগ্রাম আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে ৩০ জুন থেকে ফিশারিঘাটে মাছ ব্যবসা বন্ধ ছিল। কিন্তু আড়তদারেরা পার্শ্ববর্তী রাস্তায় মাছের ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন। সুপ্রিম কোর্ট পুরোনো আড়তে মাছ বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখলে সিটি করপোরেশন কঠোর হয়। আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে গত সপ্তাহে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সিটি করপোরেশন। ফলে ফিশারিঘাটে মাছ ব্যবসা বন্ধ রয়েছে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY