ক্রীড়া প্রতিবেদক : সুযোগটা হাতছাড়া হয়ে গেল শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের। ম্যাচটি জিতলেই এককভাবে শীর্ষে উঠে শিরোপার স্বপ্ন জোরালো করতে পারত।
কিন্তু সাইফ স্পোর্টিংয়ের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে তারা প্রথম লেগের মতো দ্বিতীয় লেগেও পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে। তাতে ১৯ ম্যাচে ৪৪ পয়েন্ট নিয়ে তারা আছে দ্বিতীয় স্থানে আর সাইফ ৩৫ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে।
কালকের ম্যাচে দুই পক্ষই মরিয়া হয়ে উঠেছিল জেতার জন্য। কিন্তু ম্যাচ ড্র হওয়ায় আপাত লাভ হয়েছে ঢাকা আবাহনীরই। তারা ৪৫ পয়েন্ট নিয়ে তাদের শীর্ষস্থান অটুট রেখেছে। তবে শেখ জামাল কোচ মাহবুব হোসেন রক্সি এই ড্রয়ে খুব হতাশ নন, ‘জিতলে আজ শীর্ষে উঠতে পারতাম, একটু সুবিধাজনক অবস্থায় পৌঁছাতে পারতাম। সেটা হয়নি বলে যে শিরোপা দৌড় থেকে ছিটকে গেছি, তা নয়। শীর্ষ দলের চেয়ে মাত্র ১ পয়েন্ট পিছিয়ে আমরা। এখনো শীর্ষ তিন দলের সুযোগ আছে, আগামী দুই রাউন্ডে এই তিন দল নিজেদের মধ্যে খেলবে।
এই ম্যাচগুলোতেই শিরোপার নিষ্পত্তি হবে। তিন দলের যে কেউ চ্যাম্পিয়ন হতে পারে। ’ শীর্ষ তিন দল ঢাকা আবাহনী, শেখ জামাল ও চট্টগ্রাম আবাহনীর মধ্যে পারস্পরিক ব্যবধান মাত্র ১ পয়েন্টের। প্রত্যেকের ম্যাচ বাকি তিনটি করে এবং বেশির ভাগই নিজেদের মধ্যে আর এই ম্যাচগুলোতে হবে প্রিমিয়ার ফুটবল লিগ শিরোপার নিষ্পত্তি।
গতকাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে দারুণ শুরু করেছিল সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব। আগের তিন ম্যাচে ৫ পয়েন্ট হারিয়ে তারা শিরোপা দৌড় থেকে ছিটকে গেলেও এই ম্যাচে ৬ মিনিটে গোল আদায় করে নেয়। বাঁ-দিক থেকে রহমতের বাড়ানো ক্রসে চার্লস শেরিংহামের হেড গোলরক্ষককে কোনো সুযোগ না দিয়ে জালে পৌঁছে গেলে শেখ জামাল ধাক্কা খায়। এটি হতে পারত তাদের এগিয়ে যাওয়ার ম্যাচ, উল্টো তারা শুরুতে গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়েছে। শুরু হয় তাদের ম্যাচে ফেরার অভিযান। রাফায়েল আর সলোমনের মতো দুই স্কোরার আছে বলে গোল নিয়ে অত সংশয়
থাকার কথা নয়। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে তাঁদের ঠিকঠাক বল জোগান দিতে পারছিল না শেখ জামালের মধ্যমাঠ। এর পরও সুযোগ তৈরি হয়েছে, যেমন ১৭ মিনিটে রাফায়েলের কাটব্যাকে নুরুল আবসারের শট ক্রসবার ঘেঁষে যায় বাইরে। পরের মিনিটে জাভেদ খানের ৩০ গজি শটের পরিণতিও একই। ২২ মিনিটে সাইফের হেমন্ত বক্সের বাইরে ফাউল করে ফ্রি-কিকের বিপদ ডেকে আনেন। সলোমন কিং ডান পায়ের দুর্দান্ত ফ্রি-কিকে ম্যাচে ফেরান শেখ জামালকে। সুবাদে ১৩ গোল নিয়ে এই গাম্বিয়ান ফরোয়ার্ড এখন লিগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে। সতীর্থ রাফায়েল ১৪ গোল নিয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে থাকলেও এই ম্যাচে মোটেও সুবিধা করতে পারেননি। সাইফের ডিফেন্ডারদের কড়া প্রহরায় থাকলেও তিনি ভালো সাপোর্ট পাননি মাঝমাঠ থেকে। একবারও গোল পাওয়ার মতো মুভ তৈরি হয়নি এই নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকারের পায়ে।
তা ছাড়া শেখ জামাল ম্যাচে ফেরার পর খেলাও বদলে যায়। তাদের মাঝমাঠের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে পুরোপুরি আধিপত্য করে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব। ৪১ মিনিটে দারুণ এক ক্রস করেছিলেন মিরাজ হাসান, কিন্তু পোস্টের সামনে থেকেও শেরিংহাম ও হ্যাম্বার ভেলেন্সিয়া কাজে লাগাতে পারেননি। দুই বিদেশি নিজেদের মধ্যে পাস খেলে ওপেন করতে গিয়ে বল তুলে দিয়েছেন গোলরক্ষকের হাতে। ৬৪ মিনিটে বাঁ-দিক থেকে হ্যাম্বারের পাস কবির দারুণ জায়গায় পেয়েও বল রাখতে পারেননি পোস্টে। পরের মিনিটে কলম্বিয়ান হ্যাম্বারের জায়গায় নামেন ওয়েডসন অ্যানসেলমে, নেমেও কিছু জয়সূচক গোল উপহার দিতে পারেননি। অথচ অনেক বড় স্বপ্ন নিয়ে মধ্যবর্তী দলবদলে এই হাইতিয়ান ফরোয়ার্ডকে চড়া দামে এনেছিল সাইফ। কিন্তু বিনিময়ে তিনি কিছুই দিতে পারেননি। তাঁর বাজে ফর্মের কারণে ভুগেছে দল, শেষ পর্যন্ত সাইফ ছিটকে পড়েছে শিরোপার দৌড় থেকেও।
আরামবাগ-ফরাশগঞ্জের মধ্যকার দিনের অন্য ম্যাচে শেষাঙ্কের নাটকীয়তায় ১-১ গোলে ড্র হয়েছে। ম্যাচের আগাগোড়া নিয়ন্ত্রণ আরামবাগের হাতে থাকলেও গোল পায়নি। যেন ইনজুরি টাইমের জন্যই অপেক্ষা। ৬ মিনিটের ইনজুরি টাইমেই ঘটেছে নাটকীয় কাণ্ড। ফরাশগঞ্জের বদলি ডিফেন্ডার ইমন আরামবাগের বুকোলাকে ফাউল করে পেনাল্টির বিপদ ডেকে আনেন। রেফারির এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফরাশগঞ্জের নাটক হয় মিনিট দুয়েক, রেফারির সঙ্গে তর্ক এরপর মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে পড়তেও উদ্যত হয়। মেনে নিয়ে আবার তারা খেলায় ফেরে এবং নাইজেরিয়ান বুকোলার পেনাল্টি গোলে এগিয়ে যায় আরামবাগ। এই গোলই যেন আরেকটি অসাধারণ গোলের জন্ম দিলো ইনজুরি টাইমের শেষ মিনিটে। প্রায় ৩৫ গজ দূর থেকে নেওয়া জসিমের শটটি হঠাৎ নিচু হয়ে গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে আরামবাগের জালে পৌঁছে গেলে ফরাশগঞ্জ শিবিরে উৎসব শুরু হয়। প্রথমত দুর্দান্ত এক গোল, এরপর হারা ম্যাচ ড্র করে রেলিগেশনের লড়াইয়ে ১২ দলের মধ্যে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে একাদশে থাকা।













