দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল উদ্বোধনে বিলম্ব

668
Map of submarine cable systems and their landing stations.

বহুল প্রতিক্ষিত দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল উদ্বোধনে আরও বিলম্ব হচ্ছে। চলতি মাসের ৩১ জুলাই উদ্বোধনের তারিখ দিয়েও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি।

সঞ্চালন লাইনের কাজ ঠিকমতো শেষ করতে পারেনি রাষ্ট্রায়ত্ব কোম্পনি বিটিসিএল। আর এ কারণেই এতো বিলম্ব হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে ক্যাবলটি উদ্বোধনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। এছাড়া একাধিক সম্ভাব্য সময় ঘোষণা করেও কাজ শেষ করা যায়নি। ফলে বিলম্বিতই হচ্ছে দ্বিতয়ি সাবমেরিনের ব্যান্ডউইথ পাওয়া।

এখন ঠিক কবে উদ্বোধন করা হবে এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কেউ কিছুই বলতে পারছে না।

গত ২৭ মার্চ ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্সের নির্বাহী কমিটির সভার আলোচনায় বলা হয়, দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল প্রকল্পের কাজ শেষ করার জন্য ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। এখন কেনো এত বিলম্ব হচ্ছে। তবে বিষয়টি নিয়ে বিটিসিএল প্রতিনিধি তখন বলেছিলেন, এপ্রিলের মধ্যেই তারা ঢাকায় সংযোগ দিতে পারবেন।

এদিকে দেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারী এবং ব্যবসায়ীরা বলছেন, ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য তারা ভারতের ব্যান্ডউইথের ওপর নির্ভারশীল হয়ে থাকতে চান না।

ভারত থেকে আনা ব্যান্ডউইথের গুণগত মান এতই খারাপ যে তার ওপর পুরোপুরি নির্ভার হওয়া যায় না। সে কারণে প্রত্যেক অপারেটরই বিএসসিসিএলের ব্যান্ডউইথ হাতে রাখেই।

বর্তমানে ভারত থেকে প্রায় ২৫০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ আসছে। আর বিএসসিসিএলের প্রথম ক্যাবল ১৮০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ দেশে ব্যবহার হচ্ছে।

বাংলাদেশের ব্যবহারকারী এবং ব্যবসায়ীরা এখনও সিই-মি-উই-৫ ক্যাবল থেকে কেনো সুবিধা না পেলেও ক্যাবলটির সঙ্গে সংযুক্ত ১৯টি কোম্পানির অধিকাংশই গত ১৬ জানুয়ারি ক্যাবলটি থেকে সেবা গ্রহণ করতে শুরু করেছে। আর বিএসসিসিএল এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ২১ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু ল্যান্ডিং স্টেশনে ওই যুক্ত হওয়া পর্যন্তই।

মার্চে ল্যান্ডিং স্টেশন সফর দিয়ে তারানা হালিম বলেছিলেন ক্যাবলটি চালু হলে বরিশাল, খুলনা, ফরিদপুর, পটুয়াখালী, যশোরসহ দক্ষিণাঞ্চলের ইন্টারনেট সেবা আরও স্বল্পমূল্যে দেওয়া যাবে।

বিএসসিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার হোসেন বলছেন, তারা পুরোপুরি তৈরি। কিন্তু সঞ্চালন লাইনের ওপরেই সব নির্ভর করছে। আর এটা যেহেতু তাদের হাতে নয় তাই কিছুই বলতে পারছেন না তিনি।

তবে ব্যান্ডউইথের দাম কমানোসহ আরও কয়েকটি বিষয়ে তারা প্রস্তুতি শেষ করে বসেও আছেন বলে জানিয়েছেন মনোয়ার।

এর আগে ২০১৬ সালের শেষ নাগাদ দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও নানা কারণে তা চলতি বছরে গড়িয়ে যায়।

দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলে সংযুক্ত হওয়ায় বাংলাদেশ অতিরিক্ত ১ হাজার ৫০০ গিগাবাইটের (জিবি) বেশি ব্যান্ডউইডথ পাচ্ছে। নতুন এ সাবমেরিন ক্যাবলের মেয়াদকাল ২০ থেকে ২৫ বছর।

এর আগে ২০০৫ সালে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো সাবমেরিন ক্যাবল ‘সি-মি-ইউ-৪’ এ যুক্ত হয়, যার মাধ্যমে এখন প্রায় ৩০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ পাওয়া যাচ্ছে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY