রোগ সনাক্ত করতে স্ক্রিনিং
সঠিক সময়ে সঠিক স্ক্রিনিং টেস্ট স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারো শরীরে কোন বিশেষ রোগের লক্ষণ উপস্থিত না থাকলেও বিভিন্ন বয়সে এবং বিভিন্ন রিস্ক ফ্যাক্টরের উপস্থিতির কারণে সময়ে সময়ে সত্যিই তার সেই বিশেষ রোগ আছে কী না, তা পরীক্ষা করে দেখা প্রয়োজন। এই পরীক্ষার নামই স্ক্রিনিং। ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি নানা রোগের লক্ষণ প্রকাশ পাবার পূর্বেই স্ক্রিনিং টেস্ট করে প্রাথমিক পর্যায়েই সে রোগগুলো সনাক্ত করা সম্ভব। আর প্রাথমিক পর্যায়ে সনাক্ত করা গেলে তখন এসব রোগের চিকিৎসাও হয় সহজতর।
স্তন বা ব্রেস্ট ক্যান্সার স্ক্রিনিং:
আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটির মতে ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সেই শুরু করতে হবে নিজে নিজে বা ডাক্তার দিয়ে স্তন পরীক্ষা করা। এটাও স্ত্রিনিং। প্রতি তিন বছরে একবার। আর বয়স ৪০ এর বেশি হলে পরীক্ষাটা করতে হবে প্রতিবছরই। ম্যামোগ্রাফিও স্তন ক্যান্সারের স্ক্রেনিং টেস্ট। এক থেকে দুই বছর অন্তর অন্তর ম্যামোগ্রাফি শুরু করতে হবে ৪০ বছর বয়সে। ৫০ বছর বয়সের পর প্রতি ২ বছরে একবার।

জরায়ুর মুখের ক্যান্সার স্ক্রিনিং:
২০ বছর বয়স থেকে অথবা বিয়ের তিন বছর পর থেকেই নিয়মিত করাতে হবে প্যাপ টেস্ট নামক স্ক্রিনিং টেস্ট। করতে হবে প্রতি তিন বছরে অন্তত একবার।
ত্বকের ক্যান্সার স্ক্রিনিং:
শরীরের জন্মদাগ বা তিলদাগ ইত্যাদিতে কোন পরিবর্তন হচ্ছে কি না তা নিয়মিতভাবে খেয়াল করতে হবে। প্রয়োজনে শরণাপন্ন হতে হবে চিকিৎসকের।
উচ্চ রক্তচাপ স্ক্রিনিং:
রক্তচাপ পরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে প্রায়শই। উচ্চ রক্তচাপ না থাকলে দুই বছরে একবার। আর উচ্চ রক্তচাপ থাকলে প্রতি বছরই করাতে হবে।
রক্তের চর্বি বা কলেস্টেরলের মাত্রা স্ক্রিনিং:
২০ বছর বয়সের পর প্রতি ৫ বছর পর পর দেখে নিতে হবে রক্তের এইচ ডি এল, এল ডি এল এবং ট্রাইগিস্নসারাইড নামক চর্বির মাত্রা। রিস্ক ফ্যাক্টর থাকলে প্রতিবছরই কয়েকবার করাতে হবে।
ডায়াবেটিস স্ক্রিনিং:
৪৫ বছর বয়স থেকে প্রতি ৩ বছর পরপর রক্তের সুগারের মাত্রা দেখে নিতে হবে। খালি পেটে রক্তের সুগারের মাত্রা। যাদের রিস্ক ফ্যাক্টর আছে তাদের অবশ্যই এই টেস্টটি করিয়ে নিতে হবে নিয়মিত।
কোলন ও মলাশয়ের ক্যান্সার স্ক্রিনিং:
আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটির মতে বয়স ৫০ থেকেই শুরু করতে হবে কোলন ও মলাশয়ের ক্যান্সারের স্ক্রিনিং টেস্ট সিগময়ডোস্কপি ও কোলনোস্কপি পরীক্ষা। সিগময়ডোস্কপি প্রতি ৫ বছরে একবার, আর কোলনোস্কপি প্রতি ১০ বছরে একবার।
০ ডাঃ মোঃ শহীদুলস্নাহ্
বিভাগীয় প্রধান, কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগ
কমিউনিটি বেজড্ মেডিকেল কলেজ ময়মনসিংহ।













