পার্কটি থাকবে তো?

721
কারওয়ান বাজারের পার্কে ওয়্যারহাউস তৈরি করছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। ছবিটি সম্প্রতি তোলা l

দখলদারত্বের কারণে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের অনুপযোগী ছিল কারওয়ান বাজারের বিনোদনমূলক পার্কটি। কিচেন মার্কেটের পেছনে প্রায় এক একর জায়গায় গড়ে ওঠা এই পার্ক থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের পর এখন নিজেরাই বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তুলছে পার্কটির তত্ত্বাবধায়ক ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।

বছরখানেক আগে এই পার্ক ও পার্ক ঘিরে গড়ে তোলা দোকানপাট ও গ্যারেজ উচ্ছেদ করে সেখানে গাড়ি, বর্জ্যবাহী ট্রাক, পিকআপ ভ্যানসহ পরিত্যক্ত যানবাহন রাখতে শুরু করে ডিএনসিসির অঞ্চল-৫-এর কার্যালয়। এর মধ্যে পার্কের পূর্ব কোণে তৈরি করা হয়েছে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস)। এখন পশ্চিম কোণে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে দুই তলাবিশিষ্ট জরুরি ওয়্যারহাউস। বর্তমানে বাইরের কেউ পার্কটিতে প্রবেশ করতে পারে না। ডিএনসিসির এসব কর্মকাণ্ডে পার্কটি আদৌ থাকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সম্প্রতি পার্কে গিয়ে দেখা যায়, বাইরে সাধারণের প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা-সংবলিত একটি সাইনবোর্ড টাঙানো। পরে একমাত্র প্রবেশপথটিতে দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মীদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ভেতরে ঢুকতে চোখে পড়ল, ভেতরে সিটি করপোরেশনের পরিত্যক্ত ও ব্যবহৃত ২০টির বেশি গাড়ি রাখা। জায়গায় জায়গায় ময়লার স্তূপ। পূর্ব কোণে নির্মিত এসটিএসের পাশেই গড়ে তোলা হয়েছে একটি অস্থায়ী বসতঘর। পার্কের মাঝখানের অংশ মাটি ফেলে উঁচু করা। আরেকটি অংশে কয়েক শ প্লাস্টিকের ঝুড়ি সাজিয়ে রাখা। আর পশ্চিম কোণে চলছে ওয়্যারহাউস নির্মাণের কাজ। সব মিলিয়ে, এটা যে বিনোদনমূলক পার্ক, তা বোঝার কোনো উপায় নেই।

পার্কটিতে এসটিএস কিংবা ওয়্যারহাউস নির্মাণের আগে ডিএনসিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তারিক বিন ইউসুফ প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ডিএনসিসির ২৮টি পার্ক ও খেলার মাঠ উন্নয়নে হাতে নেওয়া একটি প্রকল্পের তালিকায় এই পার্কটিও আছে। এটাকে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের উপযোগী করতে তাঁরা বেশ কিছু পদক্ষেপও নিয়েছেন।

তবে ১৭ নভেম্বর ডিএনসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বললেন ভিন্ন কথা। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, জায়গার অভাবে আগে ডিএনসিসির গাড়িগুলো রাখতে হতো সায়েদাবাদ এলাকায়। এখন পার্কটিতে গাড়ি রাখার ব্যবস্থা হওয়ায় সময় ও খরচ দুটোই বাঁচছে।

পার্কের জায়গায় ওয়্যারহাউস নির্মাণের কারণ জানতে চাইলে মো. আমিনুল ইসলাম প্রথমে বলেন, এ ধরনের কোনো স্থাপনা নির্মাণের খবর তাঁর জানা নেই। পরে বলেন, আসলে গাড়িগুলো বাইরে থাকে। রোদে-পানিতে নষ্ট হয়। এ জন্য সেখানে গাড়ি রাখার একটা ছাউনি বানানো হচ্ছে।

বিনোদনমূলক একটি পার্কের জায়গায় এ ধরনের কোনো স্থাপনা নির্মাণের এখতিয়ার ডিএনসিসির আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সংস্থাটির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা বলেন, ‘আসলে পার্কটির চারপাশের যা অবস্থা তাতে এটি উন্নয়ন করে টিকিয়ে রাখা সম্ভব না। গোটা কারওয়ান বাজার এলাকা নিয়ে আমাদের একটি মহাপরিকল্পনা আছে। কাঁচাবাজার সরে যাওয়ার পর সেই পরিকল্পনা অনুসারে পার্ক, উন্মুক্ত এলাকা ও বিনোদনের জায়গাসহ সবকিছু নতুন করে বানানো হবে।’

এদিকে নির্মাণাধীন ওয়্যারহাউসের কাজ সম্পর্কে আমিনুল ইসলামের বক্তব্য এক, আর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য আরেক। বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় ডিএনসিসির আরবান রেজিলিয়েন্স প্রজেক্টের আওতায় নির্মিতব্য এই স্থাপনাটি সম্পর্কে প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানান, দুর্যোগ মোকাবিলা ও উদ্ধার কার্যক্রমের জন্য এই ওয়্যারহাউসে সার্বক্ষণিকভাবে একটি অ্যাম্বুলেন্স ও লাশবাহী গাড়ি রাখা হবে। আরও থাকবে স্থানীয় লোকজনকে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা। এখানে সংরক্ষণ করা হবে বৈদ্যুতিক হাতুড়ি, ড্রিল মেশিন ও করাতের মতো নানা উদ্ধার সরঞ্জাম। দুই সিটি করপোরেশন এলাকার এমন ১৯টি ওয়্যারহাউসের মাধ্যমে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও উদ্ধার কার্যক্রমের সমন্বয় করা হবে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY