বিদ্রোহের লক্ষ্য ছিল সরকারকে অস্থির করা

606

পিলখানা হত্যা মামলায় ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায়ে হাইকোর্টের এক বিচারপতি পর্যবেক্ষণে বলেছেন, বিদ্রোহের মূল লক্ষ্য ছিল সেনা কর্মকর্তাদের জিম্মি করে যেকোনো উপায়ে দাবি আদায় করা, বাহিনীর চেইন অব কমান্ড ধ্বংস করে এই সুশৃঙ্খল বাহিনীকে অকার্যকর করা, প্রয়োজনে সেনা কর্মকর্তাদের নৃশংসভাবে নির্যাতন ও হত্যার মাধ্যমে এ বাহিনীতে ভবিষ্যতে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা নিয়োগ নিরুৎসাহিত করা, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিডিআরকে সাংঘর্ষিক অবস্থানে দাঁড় করিয়ে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি গণতান্ত্রিক সরকারকে অস্থিতিশীল করা, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করা। বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করা এবং জাতিসংঘে শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ক্ষতিগ্রস্ত করা।

এই বিদ্রোহ একটি নবনির্বাচিত সরকারকে মারাত্মক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন করে, যা ছিল গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের জন্য প্রচণ্ড হুমকিস্বরূপ।

বহুল আলোচিত পিলখানা হত্যা মামলায় ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায় দেওয়া শুরু হয়েছে গতকাল রবিবার। বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের নেতৃত্বে তিন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বিশেষ (বৃহত্তর) বেঞ্চ গতকাল রায় পড়া শুরু করেন। তবে আদেশের অংশসহ মূল

রায় ঘোষণা করা হবে আজ সোমবার। সর্বসম্মতভাবেই রায়ের আদেশ ঘোষণা করা হবে। রায়ের পর্যবেক্ষণে ভিন্ন মত থাকলেও আদেশের অংশের বিষয়ে তিন বিচারপতিই একমত হয়েছেন। আদালত বলেছেন, ‘এ মামলায় সাজা ও দণ্ড প্রদানের ক্ষেত্রে তিনজন বিচারক একমত হয়ে মামলা নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ’

তিন সদস্যের বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার। বেঞ্চের নেতৃত্বদানকারী বিচারপতি মো. শওকত হোসেন গতকাল সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে রায় পড়া শুরু করেন।

তাঁর অল্প কিছু পর্যবেক্ষণ দেওয়ার পরই পর্যবেক্ষণ দেওয়া শুরু করেন বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী। গতকাল বিকেল পর্যন্ত তিনি পর্যবেক্ষণ দেন। আজ সকালে বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার তাঁর পর্যবেক্ষণ পাঠ করবেন। এরপর মূল রায় (আদেশের অংশ) দেওয়া শুরু হবে। আজ সকাল সাড়ে ১১টার পর থেকে আদেশের অংশ ঘোষণা শুরু হতে পারে বলে আদালত জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘আজ চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হবে বলে আশা করি। ’ তিনি বলেন, রায়ে কতজনের মৃত্যুদণ্ড, কতজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হবে, কার সাজা বহাল হবে, কাকে খালাস দেওয়া হবে সে বিষয়ে তিন বিচারপতিই একমত হয়েছেন।

গতকাল রায় ঘোষণার সময় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোমতাজউদ্দিন ফকির, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ সারোয়ার কাজলসহ বেশ কয়েকজন আইন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট মহসিন রশিদ, এস এম শাহজাহান, আমিনুল ইসলাম, হেলাল উদ্দিন মোল্লা, সুলতানা আক্তার, শামীম সরদার, সুফিয়া আক্তার হেলেন, হাসনা বেগম, ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া প্রমুখ। এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে ছিলেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ এফ হাসান আরিফ। রায় শোনার জন্য বিজিবির বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মীসহ উৎসাহী আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। তবে আদালতের বাইরে নিহতদের পরিবারের বেশ কিছু সদস্য এবং আাাসমিদের আত্মীয়-স্বজন উপস্থিত ছিল। এ রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে গতকাল সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়।

এটা ছিল মাস কিলিং বিচারপতি মো. শওকত হোসেন তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, পিলখানায় হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে দেশে একটি ভয়াবহ ও ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়। তিনি বলেন, ওই দিন ৫৭ জন মেধাবী সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে হত্যা করা হয়। এমনকি বিডিআর (বর্তমান বিজিবি) মহাপরিচালকের স্ত্রীকেও হত্যা করা হয় নৃসংশভাবে। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতাযুদ্ধের সময়ও এত সংখ্যক সেনা কর্মকর্তা নিহত হননি। এটা ছিল মাস কিলিং। ওই দিন দেশের সূর্যসন্তানদের হত্যা করা হয়। যাঁদের ওই পর্যায়ে আনতে সময় লেগেছে। আজ তাঁদের স্মরণ করছি। তাঁদের বিদেহী আত্মার প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানাচ্ছি। তাঁদের পরিবারের সদস্যদের প্রতিও সমবেদনা জানাচ্ছি। ’

বিচারক বলেন, ‘আমাদের দেশের বিচার বিভাগের জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক রায়। এ মামলার বিচারকালে বেশ কিছু আইনগত প্রশ্ন ওঠে। আপিল বিভাগে রাষ্ট্রপতি রেফারেন্স পাঠান। আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তের পর বিচার শুরু হয়। ’ তিনি বলেন, ‘মামলাটি আমাদের আদালতে আসার পর ৩৭০ কার্যদিবস শুনানি গ্রহণ করেছি। এ রায় শুধুই মামলার ৮৫০ জন আসামি বা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরাই শোনার জন্য অপেক্ষা করছেন না, দেশের অনেকেই রায় জানতে চান। কেউ কেউ নির্ঘুম রাত কাটাবেন। তাই আমাদের দায়বদ্ধতা আছে। এটা অনেক বড় রায়। আমরা একটা ভালো রায় দেওয়ার চেষ্টা করছি। তাই একটু ধৈর্য ধরতে হবে। আমাদের পর্যবেক্ষণ আলাদা আলাদা থাকতে পারে। তবে গন্তব্য এক। রায়ের আদেশের অংশের বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। এ রায় ঘোষণার জন্য আমাদেরও রক্তচাপ বেড়ে গেছে। ’

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা যথাযথভাবেই সিডি দাখিল করেছেন বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘নিম্ন আদালতের রায়ে চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আনিসুল হক (বর্তমান আইনমন্ত্রী) ও অতিরিক্ত চিফ প্রসিকিউটর মোশাররফ হোসেন কাজলকে নিয়ে অনেক কিছু বলা হয়েছে। আমরা মনে করি, আইন অনুযায়ী মামলার কেস ডকেট (সিডি) আদালত তলব করতে পারেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সেটা আইনজীবীরা উপস্থাপন করে থাকেন। এ মামলার ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা যথাযথভাবেই সিডি দাখিল করেছেন। তবে নিম্ন আদালতের রায়ে এ মামলায় বিচারকালে যুক্তিতর্ক শ্রবণের সময় চিফ প্রসিকিউটর ও অতিরিক্ত চিফ প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে যে অসহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে তা অনভিপ্রেত। নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, সব পক্ষই (রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ) বিচারকাজে  সহযোগিতা করেছেন বলেই অল্প সময়ের মধ্যেই বিচারিক আদালত রায় দিতে পেরেছেন। তাই দায়িত্বশীল ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী হয়ে কোনো মন্তব্য করা উচিত নয়। তাই তর্কিত ওই অংশটুকু রায় থেকে প্রত্যাহার করা বাঞ্ছনীয় বলে মনে করি। ’

বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী বলেন, ‘যুগান্তকারী এ মামলায় সাজা প্রদানে আমরা তিনজন বিচারক একমত হয়ে মামলাটি নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ’

পর্যবেক্ষণে বলা হয়, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মামলার ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় সংগত কারণেই আইনবিজ্ঞান, অপরাধবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, চিকিৎসাবিজ্ঞান, ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ, বিভিন্ন দেশে অপরাধের সাজা ও আইনের শাসন সম্পর্কে সংবিধানের নির্দেশনা বিবেচনার দাবি রাখে।

পর্যবেক্ষণে আরো বলা হয়, এই মামলায় অভিযুক্তরা বিদ্রোহের জন্য অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, নৃশংস হত্যাকাণ্ড, অমানবিক নির্যাতন, বাড়ি ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজ, অস্ত্রাগার ভেঙে অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট করে গ্রেনেড বিস্ফোরণ, সশস্ত্র মহড়ার মাধ্যমে সন্ত্রাস ও জনজীবনে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি, লাশ গুম, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও স্থিতিশলীতা বিনষ্টের চক্রান্তসহ নানা জঘন্য অপরাধ সংঘটিত করে। ঘটনার ভয়াবহতা, নৃশংসতা, পৈশাচিকতা, বিশৃঙ্খলতা, রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা বিনষ্টের চক্রান্ত ও সামাজিক নিরাপত্তাসহ সামগ্রিক বিবেচনায় এটি রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফৌজদারি মামলা। এটা ফৌজদারি অপরাধ জগতে বিরল ঘটনা।

পর্যবেক্ষণে বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী বলেন, ৫৭ জন মেধাবী সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন মানুষকে হত্যা করে দেশের আইনের শাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা বিনষ্টের চক্রান্তে লিপ্ত হয় বিডিআর সৈনিকরা। দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়াসহ স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের ওপর প্রত্যক্ষ হুমকির বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে নারকীয় নৃশংস ও বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে এক কলঙ্কজনক অধ্যায় সৃষ্টির মাধ্যমে নিজেদেরকে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করেছে তারা। এই কলঙ্কের চিহ্ন বিডিআর (বর্তমান বিজিবি) জোয়ানদের বহুকাল বহন করতে হবে।

এই বিচারপতি পর্যবেক্ষণে আরো বলেন, পিলখানার হত্যাকাণ্ড একটি নজিরবিহীন ঘটনা। মাত্র ৩০ ঘণ্টার বিদ্রোহে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে হত্যার ঘটনা ছিল বর্বরোচিত ও নজিরবিহীন। যেখানে ১৯৭১ সালে ৯ মাসের স্বাধীনতাযুদ্ধে মাত্র ৫৫ জন সেনা কর্মকর্তা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে নিহত হন। আফ্রিকার রুয়ান্ডা ও কঙ্গোর গৃহযুদ্ধে ১৭ জন, দক্ষিণ ফিলিপাইনে এক বিদ্রোহে ছয়জন, ১৯৬৭ সালে ইন্দোনেশিয়ায় সাত দিনের বিদ্রোহে ১০০ জন নিহত হন বলে পরিসংখ্যানে পাওয়া যায়। পিলখানার ঘটনা এসব নজিরকে হার মানিয়েছে।

পর্যবেক্ষণে আরো বলা হয়, অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার লক্ষ্যে একটি স্বার্থান্বেষী মহলের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত বাহিনীকে ধ্বংসের চেষ্টা করা হয়। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অসীম ধৈর্য, বিচক্ষণতা, দৃঢ় সাহস ও বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিয়ে বিদ্রোহ দমনের যৌক্তিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন, যা প্রশংসনীয়। তাঁর রাষ্ট্রনায়কোচিত দৃঢ় পদক্ষেপ অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। অন্যদিকে আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা, দেশের সার্বভৌমত্ব, আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রশিক্ষিত, দক্ষ ও সুশৃঙ্খল প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিমান ও নৌবাহিনী দেশের সংবিধান ও গণতন্ত্রের প্রতি অগাধ বিশ্বাস ও অবিচল আস্থা রেখে চরম ধৈর্যের সঙ্গে উদ্ভূত ভয়ংকর পরিস্থিতি মোকাবেলার মাধ্যমে পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে দেশের ভালোবাসা ও সুনাম অর্জন করেছে।

বাংলাদেশ রাইফেলসের ২১৮ বছরের ইতিহাস, স্বাধীনতাযুদ্ধে তাদের (ইপিআর হিসেবে) অসামান্য ও গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রায়ে তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, ২১৮ বছরের অধিককালের ঐতিহ্যবাহী আধা সামরিক বাহিনী হিসেবে বিডিআরের নেতৃত্ব শুরু থেকেই সেনাবাহিনীর হাতে ছিল। ফলে সাধারণ জওয়ান ও সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে মর্যাদা, শৃঙ্খলা ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে ক্রমান্বয়ে দূরত্ব সৃষ্টি হয়। ফলে বিডিআর সদস্যদের মধ্যে সেনা অফিসারদের কর্তৃত্ব মেনে না নেওয়ার এক প্রচ্ছন্ন মানসিকতা নীরবে সক্রিয় ছিল। ওই ঔদ্ধত্যপূর্ণ মানসিকতায় বিডিআরের বিভাগীয় কিছু উচ্চাভিলাষী সদস্যের প্ররোচনা ও উসকানিতে সাধারণ ও নবাগত সৈনিকরা প্ররোচিত ও বিভ্রান্ত হয়েছে।

বহুল আলোচিত পিলখানা হত্যা মামলায় ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায় দেওয়া হবে আজ রবিবার। বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের নেতৃত্বে হাইকোর্টের বিশেষ (বৃহত্তর) বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করবেন। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক আসামির মৃত্যুদণ্ড হয়েছে এই মামলায় নিম্ন আদালতের রায়ে।

নিম্ন আদালত থেকে পাঠানো ডেথ রেফারেন্স, সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের করা ফৌজদারি আপিল এবং ৬৯ জনকে খালাস প্রদানসংক্রান্ত আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা একটি আপিলের ওপর শুনানি শেষে গত ১৩ এপ্রিল রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখার আদেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্টের তিন সদস্যের বেঞ্চ।

নিম্ন আদালত ২০১৪ সালের ৫ নভেম্বর এক রায়ে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ২৫৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং ২৭৮ জনকে খালাস দিয়েছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী ফাঁসির রায় অনুমোদনের জন্য নিম্ন আদালত থেকে হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স পাঠানো হয়। এ ছাড়া সাজাপ্রাপ্ত কারাবন্দি আসামিরা আপিল করেন। তবে হাইকোর্টে বিচারের শেষ পর্যায়ে ৫৮৯ জনের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আলাদা তিনটি আপিল আবেদন দাখিল করলেও হাইকোর্ট এবং পরে আপিল বিভাগ তা খারিজ করে দিয়েছেন।

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীতে তৎকালীন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দপ্তরে (পিলখানা) সংঘটিত ট্র্যাজেডিতে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হয়েছিলেন। ওই বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি লালবাগ থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা হয়েছিল। পরে মামলা দুটি স্থানান্তর করা হয় নিউ মার্কেট থানায়। হত্যা মামলায় অভিযোগপত্র দাখিলের পর লালবাগের কারা অধিদপ্তরের প্যারেড মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালতে বিচার হয়। বিচার শেষে ২০১৪ সালের ৫ নভেম্বর হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ড. মো. আখতারুজ্জামান। মামলায় আসামি ছিল ৮৪৬ জন। ওই মামলায় তৎকালীন বিডিআরের উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) তৌহিদুল আলমসহ ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, বিএনপির সাবেক এমপি নাসির উদ্দিন আহম্মেদ পিন্টু (কারাগারে মৃত্যু), স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা তোরাব আলীসহ ১৬১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং আরো ২৫৬ জনকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস পেয়েছেন ২৭৭ জন। রায়ের পর এ পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত একজন, পিন্টুসহ যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত দুজন এবং খালাস পাওয়া ১২ জন মারা গেছেন।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY