ম্যাচের ফল নিয়ে সামান্য সংশয়ও অবশিষ্ট ছিল না। অস্ট্রেলিয়ার জয় কার্যত নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল আগেরদিন। অপেক্ষা ছিল শুধু ব্যবধান জানার। শেষ দিনে সেটিও হয়ে গেল বেশ দ্রুত। দুই ওপেনারই সেরে ফেললেন জয়ের আনুষ্ঠানিকতা। চতুর্থ ইনিংসে ১৭০ রানের জয়ের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চতুর্থদিনই বিনা উইকেটে ১১৪ রান তুলে ফেলেছিল অস্ট্রেলিয়া। সোমবার শেষ দিনে বাকি ৫৬ রান তুলে নিতে ঘণ্টাখানেক সময় লেগেছে ডেভিড ওয়ার্নার ও ক্যামেরন ব্যানক্রফটের। তাদের অবিচ্ছিন্ন ১৭৩ রানের উদ্বোধনী জুটিতে ব্রিসবেন টেস্ট ইংল্যান্ডকে ১০ উইকেটে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচের অ্যাশেজ সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া।অভিষিক্ত ব্যানক্রফট ৮২ ও ওয়ার্নার ৮৭ রানে অপরাজিত থাকেন। টেস্টে চতুর্থ ইনিংসে সফল রান তাড়ায় সবচেয়ে বড় অবিচ্ছিন্ন উদ্বোধনী জুটির রেকর্ড গড়েছেন তারা। সিরিজের প্রথম টেস্টে স্বাগতিকদের এমন দাপুটে জয়ে অ্যাশেজের উত্তেজনাই যেন কিছুটা মিইয়ে গেল। টেস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এ নিয়ে সপ্তমবার ১০ উইকেটে জিতল অস্ট্রেলিয়া। ব্রিসবেনের গ্যাবা-দুর্গে ২৯ বছর অপরাজিত থাকার রেকর্ড অক্ষুণœ রাখল স্বাগতিকরা। ১৯৮৮ সালের পর ব্রিসবেনে কোনো টেস্ট হারেনি অস্ট্রেলিয়া। এবার প্রথম তিনদিনে প্রায় সমানে-সমান লড়াই হলেও চতুর্থদিনে ব্যাটিং ব্যর্থতায় ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় ইংল্যান্ড। প্রথম ইনিংসে অপরাজিত ১৪১ রানের মহাকাব্যিক এক ইনিংস খেলে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়া অসি অধিনায়ক স্টিভ স্মিথই হয়েছেন ম্যাচসেরা। ম্যাচ শেষে স্মিথ জানালেন এটা তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ইনিংস, ‘পরিস্থিতি ও অ্যাশেজের বিচারে এটি আমার অন্যতম সেরা ইনিংস। দলকে চাপ থেকে বের করে আনতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। ভালো লাগাটা তাই অন্যরকম। তবে নিজের ইনিংসের চেয়েও অ্যাশেজের প্রথম টেস্টে দলের দাপুটে জয় বেশি তৃপ্তি দিচ্ছে স্মিথকে, ‘অ্যাশেজের প্রথম টেস্ট সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ। সিরিজের সুর বেঁধে দেয় এটি। শুরুতে চাপে পড়ার পর আমরা যেভাবে খেলেছি, তাতে আমি সন্তুষ্ট। গ্যাবার রেকর্ড ধরে রাখতে পারাটা দারুণ ব্যাপার। টস হেরেও ভালো একটি দলের বিপক্ষে ১০ উইকেটে জেতাটা সত্যিই তৃপ্তিদায়ক।’
ইংল্যান্ড অধিনায়ক জো রুট অবশ্য এমন হারেও ভেঙে পড়েননি, ‘নিজেদের ওপর আস্থা রাখতে হবে আমাদের। কারণ এখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর সামর্থ্য আছে এই দলটির। প্রথম তিনদিনে আমরা দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলেছি। দুভার্গ্যজনকভাবে ভালো অবস্থানে থাকার সুযোগ কাজে লাগাতে পারিনি। তবে হারেই সব শেষ হয়ে যায়নি। মাথা উঁচু রাখতে হবে আমাদের।’ আগামী শনিবার অ্যাডিলেডে শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট। অ্যাশেজ ইতিহাসের প্রথম ডে-নাইট টেস্ট এটি। এএফপি।
স্কোর কার্ড
ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংস ৩০২ (স্টোনম্যান ৫৩, ভিন্স ৮৩, মালান ৫৬, মঈন আলী ৩৮। স্টার্ক ৩/৭৭, কামিন্স ৩/৮৫)।
অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস ৩২৮ (ওয়ার্নার ২৬, স্মিথ ১৪১*, শন মার্শ ৫১, কামিন্স ৪২। অ্যান্ডারসন ২/৫০, ব্রড ৩/৪৯, মঈন আলী ২/৭৪)।
ইংল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংস ১৯৫ (স্টোনম্যান ২৭, রুট ৫১, মঈন আলী ৪০, বেয়ারস্টো ৪২। স্টার্ক ৩/৫১, হ্যাজলউড ৩/৪৬, লায়ন ৩/৬৭)।
অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংস (টার্গেট ১৭০ রান)
রান বল ৪ ৬
ব্যানক্রফট নটআউট ৮২ ১৮২ ১০ ১
ওয়ার্নার নটআউট ৮৭ ১১৯ ১০ ০
অতিরিক্ত ৪
মোট (বিনা উইকেটে, ৫০ ওভারে) ১৭৩
বোলিং : অ্যান্ডারসন ১১-২-২৭-০, ব্রড ১০-২-২০-০, মঈন আলী ৪-০-২৩-০, ওকস ১১-১-৪৬-০, বল ৮-১-৩৮-০, রুট ৬-১-১৭-০।
ফল : অস্ট্রেলিয়া ১০ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ : স্টিভ স্মিথ (অস্ট্রেলিয়া)।













