বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাতই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ইউনেসকোর বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পাওয়ায় আয়োজিত আনন্দ শোভাযাত্রা উপলক্ষে গতকাল সোমবার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আলী আশরাফ ক্যাম্পাসে গিয়েছিলেন। বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও আনন্দ শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিয়ে তিনি ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। তবে তিনি তাঁর দপ্তরে যাননি। শিক্ষক সমিতির আন্দোলনের মুখে ৪৩ দিন ধরে তিনি বাংলোতে বসেই দাপ্তরিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। আগামী ২ ডিসেম্বর তাঁর মেয়াদ শেষ হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২৫ নভেম্বর সারা দেশে একযোগে বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণকে কেন্দ্র করে আনন্দ শোভাযাত্রা হয়। কিন্তু কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই দিন সেটি পালন করেনি। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গতকাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আনন্দ শোভাযাত্রার আয়োজন করে। এদিন বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর উপাচার্য মো. আলী আশরাফের নেতৃত্বে শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি নগরের সালমানপুর ও শালবন বৌদ্ধবিহারসংলগ্ন ময়নামতি জাদুঘর এলাকা ঘুরে পুনরায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়।
সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, ‘আগামী শনিবার আমার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এ বিশ্ববিদ্যালয় যেন ভালো চলে, সেই দোয়া করছি। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন।’
জানতে চাইলে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, উপাচার্য সব মিলিয়ে ঘণ্টা খানেক ক্যাম্পাসে অবস্থান করেন। তিনি বিদায়ী ভাষণ দিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ অক্টোবর ১৪ দফা দাবি জানিয়ে উপাচার্য মো. আলী আশরাফের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। পরদিন তাঁর দপ্তরে তালা দেয় শিক্ষক সমিতি। এরপর থেকে গত ৪৩ দিন তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে যাননি।
উল্লেখ, ২০১৩ সালের ১ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মো. আলী আশরাফকে চার বছরের জন্য কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নিয়োগ দেন আচার্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। তিনি ৩ ডিসেম্বর এ বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য পদে যোগ দেন।













