অপু বিশ্বাসকে তালাকের নোটিশ পাঠিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ার কাঠগড়ায় উঠতে চলেছেন শাকিব খান। নেটিজেনরা বলছেন শাকিবের অভিযোগ একেবারে ঠুনকো।
এমনকী, শাকিব-অপুর মাঝে তৃতীয় একজন চিত্রনায়িকার নামও চলে আসছে।
এছাড়াও শাকিব-অপু কারো ভক্তই বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না। অপু বিশ্বাস শাকিব খানকে ধর্মান্তরিত হয়ে বিয়ে করেন। এরপর দীর্ঘদিন গোপন থাকে সেই বিয়ে। বিয়ের বিষয়টি অপু প্রকাশ্যে আসার পর ‘সাময়িক’ সব ঠিকঠাক হয়ে গেলেও সুর যে কেটে গিয়েছে সেটা শোবিজ অঙ্গনের সবাই জেনে গিয়েছিলেন।
২০০৬ সালে ‘কোটি টাকার কাবিন’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে শাকিব-অপুর জুটি গড়ে ওঠে। ২০০৮ সালে তাদের বিয়ে হয়। গতবছরের ২৭ সেপ্টেম্বর কলকাতায় তাদের পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। কিন্তু সেসব তারা আড়ালেই রেখেছিলেন।
মাঝে মাঝেই বিয়ে ভেঙে যাওয়ার খবর চাউর হচ্ছিল। কিন্তু সেসব ঠেকছিল এসে গুজবে। শেষ পর্যন্ত গুজবই বাস্তবে পরিণত হলো। বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার এক বছর হতে না হতেই অপুকে ডিভোর্সের নোটিশ পাঠালেন শাকিব।
ডিভোর্সের আইনজীবী শেখ সিরাজুল ইসলাম সোমবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের বলেন, বিয়ের সময় ধর্মান্তরিত হয়ে অপু বিশ্বাস শাকিব খানকে বিয়ে করেছিলেন। কথা ছিল তিনি মুসলিম রীতিনীতি মেনে চলবেন ও গৃহিনী হয়ে থাকবেন। কিন্তু অপু বিশ্বাস সে কথা রাখেননি।
শাকিবের অভিযোগ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল সমালোচনা হচ্ছে, অনেকেই বলছেন শাকিব খানের এই তালাক পরিকল্পিত। পূর্ব থেকেই ঠিক করা ছিল। না হলে এমন অভিযোগ কেন আমলে নেবে?
ডিভোর্সে উল্লেখিত অভিযোগ অনুযায়ী, অপু তার পছন্দ অপছন্দকে গুরুত্ব দিচ্ছিলেন না। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, অপু শাকিবের পছন্দের সীমার মধ্যে থাকেন নি। সম্প্রতি তাঁদের সন্তানকে গৃহপরিচারিকার কাছে রেখে দেশের বাইরে যান অপু। এ ব্যাপারে অপুর কাছ থেকে তিনি কোনো সন্তোষজনক জবাব পাননি। শাকিব ধরে নিয়েছেন, অপু তাঁর সঙ্গে সংসার করতে চান না।
শাকিবের তালাকের নোটিশে বলা হয়েছে, ছেলেকে তালাবন্ধ করে রাখার খবর শুনেই অপুর বাসায় ছুটে যান তিনি। কিন্তু সন্তানকে উদ্ধার করতে না পেরে পরে থানায় জিডি করেন।
তবে অপু বিশ্বাস বিষয়টি অস্বীকার করে সে সময় গণমাধ্যমে জানিয়েছিলেন, তিনি চিকিৎসা করাতে কলকাতায় গিয়েছিলেন। ছেলে জয়কে কাজের মেয়ের কাছে নয়, বড়বোনের কাছে রেখে গিয়েছিলেন। সেসময় ছেলেকে ভারতে না নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে জানিয়েছিলেন, কলকাতার শীতের কারণেই ছেলেকে রেখে গিয়েছিলেন।
তবে নেটিজেন ও ভক্তরা মোটেও এই অভিযোগকে পাত্তা দিচ্ছেন না। তাঁদের ময়তে অপুকে যদি শাকিব গ্রহণ করতেন তাহলে এমন ঝামেলাই তৈরি হতো না। শাকিব-অপু একসাথে থাকলে এরকম দূরত্ব তৈরি হওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। যে মেয়ে ধর্মান্তরিত হলো, তার জন্য শাকিবের এই উপহার? এমনসব প্রশ্নে ভভরে যাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া।
আইনজীবী বলেন, এসব ঘটনার কারণেই শাকিব খান অপুকে তালাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। গত ২২ নভেম্বর অপু বিশ্বাসের ঢাকার বাসা ও বগুড়ার ঠিকানায় রেজিস্ট্রি করা হলফনামা আকারে তালাকনামা পাঠানো হয়।
পরবর্তী প্রক্রিয়া জানতে চাইলে আইনজীবী সিরাজুল ইসলাম বলেন, নিয়ম হলো ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সালিশি পরিষদ দুজনকে ডেকে নিয়ে বসবে যেন সংসারটি ভেঙে না যায়। যদি শাকিব খান তারপরও মনে করেন এটাই তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, তবে ৯০ দিন পর তালাকনামা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয়ে যাবে।
শেখ সিরাজুল ইসলাম জানান, বিয়ের দেনমোহর বাবদ সাত লাখ টাকা অপুকে পরিশোধ করবেন শাকিব খান। এ ছাড়া তিনি একমাত্র সন্তান আব্রাম খান জয়ের ভরণপোষণ করবেন।













